রাজধানীর আদাবরে বিকাশের দোকানে ঢুকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মো. জাহিদ নামে এক সন্দেহভাজন ‘ছিনতাইকারী’ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণপিটুনির এই ঘটনা ঘটে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, বিকাশের দোকানে ঢুকে নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুপুরে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। পরে আদাবর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। এরপর আহত অবস্থায় শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে আদালতে তোলা হয়। আদালত তার চিকিৎসা নিশ্চিতের আদেশ দেন। পরে আবারও জাহিদকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে বিকেল ৫টায় মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের আরও একটি সূত্রে জানা যায়, গণপিটুনিতে আহত হলে প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই মারা যান জাহিদ। পরে সেখান থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার পর একদল ডাকাত সদস্য আদাবরের শেখেরটেকের এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে ঢোকে। একপর্যায়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা দোকান মালিক মো. শফিকুল ইসলামকে (৩৭) এলোপাথাড়ি কুপিয়ে নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা ছাড়াও তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মোহাম্মদপুরের তুরাগ হাউজিংয়ে অভিযান চালালে পুলিশের উপরে হামলা চালায় ছিনতাইকারীরা। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়।
এরপর র্যাব-২ এর একটি আভিধানিক দল ওই ছিনতাইকারী চক্রের সেল্টারদাতা বাবু ওরফে এক্সেল বাবুকে এবং কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপে সেকেন্ড হ্যান্ড কমান্ড আবু সাঈদসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় মামুন নামে আরও একজনকে আটক করে আদাবর থানা পুলিশ। এই ঘটনা আদাবর থানায় পুলিশের উপরে হামলা ও ডাকাতির ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা হয়।
মামলার তদন্তকালে এজাহারভুক্ত ২ আসামি ছাড়াও সন্দেহভাজন আরও ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। সবশেষে তদন্তের ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৩টার দিকে গাজীপুরের ফকির মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মামুনকে গ্রেপ্তার করে আদাবর থানা পুলিশ।
এসএএ/এসএইচএ
