বিজ্ঞাপন

টাকা চুরি করে প্রেমিকার বাড়ি গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না সিকিউরিটি গার্ডের

টাকা চুরি করে প্রেমিকার বাড়ি গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না সিকিউরিটি গার্ডের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ক্যাম্পাসের ইসলামী ব্যাংক বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রধান আসামি সিকিউরিটি গার্ড আইয়ুব আলীকে (৫৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে রংপুরে প্রেমিকার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৮ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আইয়ুব আলীর বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যেরঘোনা (জাদিরপাহাড় রোড) এলাকায়। তার বাবার নাম ছাবির আহম্মদ।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত আইআইইউসি ক্যাম্পাসের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির এজেন্ট ও কালেকশন বুথ থেকে এই বিশাল অঙ্কের টাকা গায়েব হয়। বুথের দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ড আইয়ুব আলী গ্রাহকদের জমাকৃত ১৭ লাখ টাকা কৌশলে একটি ব্যাগে ভরে সিসিটিভি ক্যামেরা এড়িয়ে পালিয়ে যান। 

টাকা চুরির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর, ওই দিনই ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুঈনুল ইসলাম বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ।

চুরির পর পুলিশ প্রথমে কক্সবাজারে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালালেও সেখানে তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, আইয়ুব আলী সিসিটিভি ফাঁকি দিলেও নিজের প্রেমিকার টান এড়াতে পারেননি। ১৭ লাখ টাকা ব্যাগে করে তিনি সরাসরি চলে যান রংপুরে তার প্রেমিকার বাড়িতে। পুলিশ তার প্রেমিকার মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে রংপুরে আইয়ুবের অবস্থান নিশ্চিত করে। শনিবার (২৭ জুন) রংপুরের একটি বাস কাউন্টারে ওত পেতে থাকা সীতাকুণ্ড থানার তদন্তকারী দল টাকার ব্যাগসহ আইয়ুব আলীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয় এবং রোববার (২৮ জুন) সকালে তাকে চট্টগ্রাম আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আসামির কাছ থেকে চুরি হওয়া টাকার একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এই চুরির পেছনে অন্য কারও ইন্ধন বা সহযোগিতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আতিকুল হা-মীম/জেআই