ঢাকার নিমতলী ট্র্যাজেডির ১৬ বছর পরও অগ্নিকাণ্ড ও রাসায়নিক নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত ‘নিমতলী ট্র্যাজেডি: অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড থামবে কবে?’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ঢাকার নিমতলী এলাকার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মতো প্রতিটি ঘটনার পরই তদন্ত হয়েছে, নির্দেশনা এসেছে, অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর সবকিছু আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। অদ্যাবধি কাউকে বা কোনো সংস্থাকে দায়ী করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দায়হীনতার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে। এটি যেন এক ভয়ংকর চক্র—অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু, শোক, প্রতিশ্রুতি, তারপর বিস্মৃতি।
তিনি বলেন, নিমতলী কেমিক্যাল ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন শিক্ষা। এই দুর্ঘটনা প্রমাণ করেছে যে দুর্বল নগর পরিকল্পনা, অপর্যাপ্ত রাসায়নিক নিরাপত্তা, আইন বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির অভাব একটি স্থানীয় দুর্ঘটনাকে জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত করতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক পরিচালক শাকিল নেওয়াজ বলেন, সম্মিলিতভাবে চেষ্টা না করলে ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড রোধে ফায়ার সার্ভিসের একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়।
বাপার নেতা ও রাজনীতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা কি সংকটের সমাধান চাই, নাকি সংকট তৈরি হওয়ার পর তার সমাধান করতে চাই? আমরা দেখছি, সংকট সৃষ্টির পরের বিষয়গুলো নিয়েই বেশি কাজ হচ্ছে। সেটিও প্রয়োজন, তবে সংকট যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া আরও জরুরি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আব্দুস সালাম বলেন, আমরা ডেঙ্গু নিয়ে আন্দোলন করছি, অথচ ৬০ শতাংশ বাড়িতে গিয়ে মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা সাধারণত অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই। তাই আগে থেকেই সচেতন হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এ জন্য জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক জাভেদ জাহান, নির্বাহী সদস্য ইকবাল হাবিব প্রমুখ।
ওএফএ/এমএসএ
