বিজ্ঞাপন

৭১-এর ভূমিকার জন্য একবারও ক্ষমা চাইলেন না : জামায়াতকে মির্জা ফখরুল

৭১-এর ভূমিকার জন্য একবারও ক্ষমা চাইলেন না : জামায়াতকে মির্জা ফখরুল

১৯৭১ সালের নেতিবাচক ভূমিকার জন্য জাতির সামনে ক্ষমা প্রার্থনা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দল ‘এনসিপি’কে অতীতের কোনো ‘স্টিগমা’ বা কলঙ্ক বয়ে না নিয়ে রাজনীতিতে আরও পরিষ্কার অবস্থান তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদের বিরোধী পক্ষের সদস্যদের উদ্দেশে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৭১ সালের ভূমিকার জন্য আপনারা একবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। কিন্তু আপনারা তা করতে পারেননি। উপরন্তু আপনাদের নেতা তখন প্রফেসর গোলাম আজম সাহেব বলেছিলেন ৭১-এ আমরা ভুল করিনি। এখনো সময় আছে এবং আপনাদের ভেবে দেখা উচিত। বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার করে দেশের মানুষকে জানানো উচিত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি এই ভুল স্বীকার করে নেন, তবে আপনাদের জন্য রাজনীতি অনেক সহজ হয়ে যাবে।

এদিকে তরুণ প্রজন্মের দল ‘এনসিপির’ পার্লামেন্টারি পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তিনি আনন্দিত যে এই নবীনরা ভালো পারফরম্যান্স শো করছেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা তাদের রাজনীতি আরও পরিষ্কার করবে। এমন কোনো ‘স্টিগমা’ বা কলঙ্ক নিয়ে যেন তারা পরবর্তীতে না থাকে, যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নকেই অস্বীকার করেছিল। এই নবীন দলটির ভবিষ্যতের প্রতি শুভকামনাও জানান তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’, এই তিন মূল ভিত্তির ওপর বাজেট সাজিয়েছেন। আগামী এক বছরে অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, তিন বছরে সংস্কার এবং পাঁচ বছরের মধ্যে কাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০২ সালে চীন সফরের সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামনে তারেক রহমানকে বলেছিলেন, ‘ক্যারি দ্য ফ্ল্যাগ অফ ইউর ফাদার অ্যান্ড মাদার’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই স্বাধীনতার পতাকা, গণতন্ত্রের পতাকা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা নিয়ে আবারও চীন গিয়েছিলেন। সেই পতাকা নিয়েই তিনি ফিরে এসেছেন এবং দেশের এই অগ্রযাত্রায় বিজয় অনিবার্য বলেও মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

এসআর/বিআরইউ