বিজ্ঞাপন

মানবপাচার রোধ ও বিদেশ ফেরতদের কল্যাণে কাজ করবে ‘ব্রেভ’ নেটওয়ার্ক

মানবপাচার রোধ ও বিদেশ ফেরতদের কল্যাণে কাজ করবে ‘ব্রেভ’ নেটওয়ার্ক

অনিরাপদ অভিবাসন, মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং প্রবাসী ও বিদেশ-ফেরতদের অধিকার সুরক্ষায় আত্মপ্রকাশ করেছে স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক ‘ব্রেভ’।

বিদেশ-ফেরত অভিবাসী এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার অর্ধশত মানুষ এই স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক করেছেন যেখানে ভবিষ্যতে তারা অন্যদেরও যুক্ত করতে চান।

মালয়েশিয়ায় পাচারের শিকার আল আমিন নয়ন এই নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। উটের জকি হিসেবে দুবাইতে পাচারের শিকার দেবানন্দ মন্ডল ব্রেভ নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে এই নেটওয়ার্ককে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। 

রোববার (২৮ জুন) এই নেটওয়ার্কের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সারা দেশ থেকে আগত ৫০ জন মানব পাচার সার্ভাইভার ও বিদেশ-ফেরত অভিবাসী এই নেটওয়ার্কের উদ্বোধনীতে অংশ নিয়েছেন। 

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপলস স্মাগলিং’ প্রকল্প এ বৈঠক আয়োজনে সহায়তা করেছে। 

অনুষ্ঠানে ব্রেভ নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা আল আমিন নয়ন বলেন, পাচার থেকে বেঁচে ফিরে আসা মানুষেরা যখন নিজেরা সচেতনতা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসে, তখন তার প্রভাব আরও কার্যকরী হয়। ব্রেভ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দুর্ভোগের শিকার সারভাইভারদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা মানব পাচার রোধে বড় ভূমিকা রাখবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে যশোরের বিদেশ-ফেরত অভিবাসী শাহনাজ পারভীন বলেন, বিদেশ থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরলে সমাজে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়। বিদেশ-ফেরতদের পুনরায় এক করে সমাজের মনোভাব বদলাতে কাজ করবে এই নেটওয়ার্ক। 

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দালালরা ইউরোপ, মালয়েশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে সমুদ্রপথে অধিকাংশের পরিণতি হয় মৃত্যু, কারাবাস বা নির্যাতন। মানব পাচার রুখতে হবে। সারা দেশে জনসচেতনতায় ব্রেভের মাধ্যমে বিদেশ-ফেরত অভিবাসী ও মানব পাচারের শিকার মানুষরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি তারা পাচারের শিকার ও বিদেশ ফেরত মানুষের অধিকার আদায় ও কল্যাণে নানা কাজ করতে পারেন।

নবগঠিত ব্রেভ নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে নিরাপদ, নিয়মিত ও দায়িত্বশীল অভিবাসন বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিদেশগমনেচ্ছুদের জেনে-বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করা এবং সারভাইভারদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করা হবে। 

এ ছাড়া, নেটওয়ার্কের সদস্যদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে কম্যুনিটি ভিত্তিক উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। 

এনআই/এসএম

বিজ্ঞাপন