বিজ্ঞাপন

১৪ জেলায় বজ্রপাতের সতর্কবার্তা

১৪ জেলায় বজ্রপাতের সতর্কবার্তা

দেশের ১৪ জেলার কিছু এলাকায় আজ দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রপাত, বজ্রবৃষ্টি ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। 

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসরকারি সংস্থা রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

এমন অবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় বজ্রধ্বনি শোনা গেলে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি খোলা জায়গায় অবস্থান ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। 

রাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ১টার মধ্যে বগুড়া, নওগাঁ, জামালপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর জেলার কিছু স্থানে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রপাত, বজ্রবৃষ্টি বা বৃষ্টি হতে পারে। একই দিনে দুপুর ২টার মধ্যে শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও যশোর জেলার কিছু এলাকায় একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এছাড়া বিকেল ৪টার মধ্যে নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও পাবনা জেলার কিছু স্থানে বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

সংস্থাটির আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ গোলাম রাব্বানী বলেন, বজ্রপাতের সময় ঘরের বাইরে কোনো স্থানই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সর্বশেষ বজ্রধ্বনি শোনার পরও অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের ভেতরে অবস্থান করা উচিত। আকাশে কালো মেঘ দেখা গেলে বা বজ্রপাতের শব্দ শোনা গেলে ধান কাটা, মাছ ধরা, খেলাধুলাসহ খোলা জায়গার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে।

নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে দলবদ্ধ হয়ে না থেকে ছড়িয়ে অবস্থান করতে হবে। বাড়ির উঠানে থাকা, আম বা শিলা কুড়াতে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। গাছের নিচে, উঁচু স্থানে, বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে বা ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তারের আশপাশে অবস্থান করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

বাড়ির ভেতরে অবস্থান করলে ছাদ, দরজা–জানালার কাছে থাকা বা জানালার গ্রিল স্পর্শ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে বাথরুমের কল, রান্নাঘরের সিঙ্ক, লোহার পাইপ, চার্জে থাকা মোবাইল ফোন, তারযুক্ত টেলিফোন এবং বিদ্যুৎ সংযোগে থাকা যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
 
রাইমস আরও জানিয়েছে, বজ্রপাতের সময় তাবু, চারদিকে খোলা আশ্রয়কেন্দ্র বা ধাতব কাঠামোর ছাউনির নিচে অবস্থান করা নিরাপদ নয়। জলাশয়ে থাকা বা মাছ ধরা থেকেও বিরত থাকতে হবে। নৌকায় থাকলে ছইয়ের নিচে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া বজ্রপাতে কেউ আহত হলে দ্রুত হাসপাতালে বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া এবং সিপিআর দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরএইচটি/এমএসএ