বিজ্ঞাপন

দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

ডেসটিনির রফিকুল আমিনের অনেক সম্পদ বেহাত!

ডেসটিনির রফিকুল আমিনের অনেক সম্পদ বেহাত!

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় দেড় দশক আগের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করতে সোমবার (২৯ জুন) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

সংস্থাটির একজন সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমীনকে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তলব করা হয়েছিল। আজ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 

অন্যদিকে দুদকের একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ১২ বছর কারাভোগের পর গতবছরের ১৫ জানুয়ারি মুক্তি পান রফিকুল। দীর্ঘদিন জেলে থাকায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগটি পেন্ডিং ছিল। আজকের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার সম্পদ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। কিছু কাগজ দিয়েছেন, বাকিগুলো দিতে সময় চেয়েছেন।

অপর একটি সূত্রে জানা যায়, দুদক টিমের কাছে তার কারাভোগের করুণ কাহিনী উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি দাবি করেন তার অর্জিত বেশকিছু সম্পদ বেদখল হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে তার মালিকানা থাকলেও আজ তা বেহাত। এ বিষয় দুদকের সহযোগিতা চান রফিকুল ইসলাম। 

এর আগে ২০১২ সালে রফিকুল আমীনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু হয়। দীর্ঘদিন পর সেই অভিযোগের অনুসন্ধান আবারও সক্রিয় করেছে সংস্থাটি।

ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের বৃক্ষরোপণ প্রকল্প ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক।

একই অভিযোগে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের সাবেক পরিচালক গোফরানুল হক ও তৈয়বুর রহমানকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। তবে নির্ধারিত দিনে তারা দুদকে হাজির হননি বলে জানিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

২০১২ সালে দুদক ডেসটিনির ৮ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করেছিল বলে জানা যায়। তারা হলেন- ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের পরিচালক ও সাবেক ডিএমসিএসএল’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ গোফরানুল হক, ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের সাবেক পরিচালক ও ডেসটিনি বিল্ডার্সের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়বুর রহমান, ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের সাবেক পরিচালক ও ডেসটিনি বিল্ডার্সের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের পরিচালক ইরফান আহমেদ সানী, মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান ও ডেসটিনি মাল্ডিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আকবর হোসেন সুমন।

আরএম/জেডএস

বিজ্ঞাপন