জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ কার্যকরভাবে প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
সোমবার (২৯ জুন) ডিএনসিসির সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মশালায় আয়োজকরা এ বিষয় জানান।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের বর্তমান পরিস্থিতি, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭ অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করে। এছাড়া প্রায় ৪ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে এবং তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, তামাকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইন বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তামাক ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, সতর্কতামূলক বার্তা, তথ্যচিত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।
অন্যদিকে, এসব কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর বাস্তবায়ন এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত, ধূমপানমুক্ত নগর পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— ডিএনসিসির উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা আলী, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদসহ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামে সদস্যরা।
এএসএস/এমএন
