বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের চলমান উদ্যোগ স্থগিত করে লিজ চুক্তিগুলো তদন্ত ও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ।

আজ (সোমবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত জাতীয় সম্পদ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এ খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২০২০ সালের ২ জুলাই তৎকালীন সরকার উৎপাদন বন্ধ করে মিলগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও তাদের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি এবং বকেয়া পাওনাও পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পাটকল চালুর প্রত্যাশা তৈরি হলেও বর্তমান সরকারও পূর্ববর্তী নীতির ধারাবাহিকতায় বেসরকারিকরণ এগিয়ে নিচ্ছে।

তারা বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও চিনিকল চালুর জন্য টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হলেও ক্ষমতায় এসে সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিখাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, ইতোমধ্যে ১৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ৩০ বছরের জন্য বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি উৎপাদনে ফিরেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে আগের তুলনায় শ্রমিক নিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেক লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান মূল পাটপণ্য উৎপাদনের পরিবর্তে গুদাম, লজিস্টিকস বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে মিলের অবকাঠামো ব্যবহার করছে। ফলে পাটচাষি, শ্রমিক ও স্থানীয় অর্থনীতি প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না।

বক্তারা অতীতের বেসরকারিকরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রীয় শিল্প ব্যক্তিখাতে হস্তান্তরের পর বহু কারখানা উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে অথবা জমি ও সম্পদ অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। একই ধরনের ঝুঁকি বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

সভায় উপস্থাপিত চারটি দাবি—
১. চলমান বেসরকারিকরণ নীতি স্থগিত করে সব লিজ চুক্তি তদন্ত ও পর্যালোচনা।
২. পূর্ববর্তী সরকারের লিজ প্রক্রিয়া বাতিল।
৩. পেশাদার টেক্সটাইল প্রকৌশলী, পাট বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন।
৪. পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ শতভাগ বাস্তবায়ন।

ওএফএ/এসএএস/এনএফ

বিজ্ঞাপন