বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও এর কার্যকর বাস্তবায়নে দেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর উৎপন্ন হওয়া প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি চলে যাচ্ছে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার বাইরে, যা দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই বিশাল বর্জ্য রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার না করায়, প্রতিবছর দেশ আনুমানিক ২০০ থেকে ২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) সমমূল্যের পুনরুদ্ধারযোগ্য মূল্যবান সম্পদ হারাচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীতে অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনসের (এপিসি) সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ভয়েস’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক সভায় এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়।
সভায় ভয়েস-এর পক্ষ থেকে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’-এর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে পরিচালিত একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে স্বচ্ছতা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিবন্ধন থাকলেও, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। জরিপকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ‘টেক-ব্যাক’ বা পণ্য ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া একই সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বিপজ্জনক ঝুঁকির মানদণ্ড অনুসরণ ও যাচাই করে থাকে।
এরমধ্যে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, গত অর্থবছরে কোনো প্রতিষ্ঠানই মেয়াদোত্তীর্ণ ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ করেনি এবং এর যথাযথ সংরক্ষণ ও রেকর্ড সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা বজায় রাখেনি।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়। তবে এর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশেরও কম বর্জ্য আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইকেল করা হয়ে থাকে। যথাযথ আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবছর দেশ আনুমানিক ২০০ থেকে ২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পুনরুদ্ধারযোগ্য মূল্যবান সম্পদ হারাচ্ছে।
সভায় ভয়েসের বন্ধন দাস মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন করে বলেন, আমাদের মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি অর্জন করেছে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনো অনেকাংশেই অকার্যকর। আইনের যথাযথ প্রয়োগ, উৎপাদকদের জবাবদিহিতা এবং কার্যকর সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়া ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালার প্রত্যাশিত পরিবেশগত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ সংগঠনটির দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা গবেষণা, অ্যাডভোকেসি এবং নীতিগত সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ই-বর্জ্য সংকটের প্রতি গুরুত্বারোপে কাজ করে আসছি। ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর অর্থবহ ও কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
এসময় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নেতা আমিনুর রসুল, বাংলাদেশ উই সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা আক্তার ঊল আলম, ভয়েসের উপপরিচালক মোশাররাত মাহেরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচটি/বিআরইউ
