দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব, চট্টগ্রাম এবং রংপুরের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) র্যাব-৭-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যিক্তিরা হলেন, মামলার প্রধান আসামি মো. সাদেকুল ইসলাম (৩০) এবং দুই নম্বর আসামি মো. সাকিব (১৯)। তারা দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার উত্তর পলাশবাড়ী টেপাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, নিহত শহিদুল হক দুলু ও তার ছেলে জয়নাল আবেদিনের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পারিবারিক ও জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। নিহত শহিদুল হক দুলু ছিলেন সাদেকুল ও সাকিবের বাবা এবং জয়নাল আবেদিন তাদের সৎভাই ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে সকাল আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে চিরিরবন্দর উপজেলার উত্তর পলাশবাড়ী বেগপাড়া এলাকায় একটি ভুট্টাক্ষেতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে শহিদুল হক দুলুকে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়। বাবাকে রক্ষা করতে গেলে জয়নাল আবেদিনও গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৩ মে চিরিরবন্দর থানায় ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
র্যাব-৭ জানান, মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব- চট্টগ্রাম ও রংপুরের যৌথ আভিযানিক দল সোমবার (২৯ জুন) পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে।
প্রথম অভিযানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইপিজেড থানার আকমল আলী রোড এলাকা থেকে প্রধান আসামি মো. সাদেকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ইপিজেড থানার হোটেল ব্লু সোম ইন্টারন্যাশনালের সামনে অভিযান চালিয়ে অপর আসামি মো. সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেআই/এসএম
