বিজ্ঞাপন

কাজী জেবুন্নেছা

কিশোরী-তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশে গাইডিং কার্যক্রম বাড়াতে হবে

কিশোরী-তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশে গাইডিং কার্যক্রম বাড়াতে হবে

বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার ও প্রশিক্ষণ কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগম বলেছেন, কিশোরী ও তরুণীদের নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনদক্ষতা বিকাশে গাইডিং কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। কারণ, গাইডিং মেয়ে শিশু, কিশোরী ও তরুণীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। এ লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি পরিপত্র বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘গাইডার সম্মেলনে’ তিনি এসব কথা বলেন।

কাজী জেবুন্নেছা বলেন, মেয়েদের জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গাইডিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তা ছাড়া প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভার বিকাশের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম। গাইডিং সেই সুযোগ তৈরি করে, যেখানে একজন সদস্য নিজের বিকাশের পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, গাইডিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, প্রশাসন, কমিশনার, গাইডার ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি পরিপত্র ও গাইডিং-সংক্রান্ত নীতিমালা সম্পর্কে গাইডারদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এসব নীতিমালা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের মধ্যে গার্ল গাইডিং সম্পর্কে ইতিবাচক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে গাইডিং কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ করা সম্ভব হবে।

সম্মেলনে রাজধানী, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আগত গাইড গাইডার ও রেঞ্জার গাইডাররা অংশ নেন। মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে গাইডিং কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় তুলে ধরেন।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন— বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আহমেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ জাহান আরা বেগম। পরে গাইডিং কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকারি পরিপত্র বাস্তবায়ন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রশাসন) ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাবিনা ফেরদৌস। অঞ্চল পর্যায়ে গাইড গাইডার ও রেঞ্জার গাইডারদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন রাজধানী অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার রওশন ইসলাম এবং ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার আনজুমান আরা। সমাপনী পর্বে সবাইকে ধন্যবাদ জানান করেন বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের রেঞ্জার কমিশনার অধ্যাপক শামীম আরা।

আরএইচটি/এসএএস/এমএন

বিজ্ঞাপন