চট্টগ্রাম নগরীতে মশার উপদ্রব ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত জৈব লার্ভিসাইড বিটিআই (বিটি আই) সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মেয়র সরাসরি ও সাশ্রয়ী মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিটিআই সংগ্রহে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করলে প্রতিনিধিদল বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
বিটিআই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত একটি পরিবেশবান্ধব জৈব লার্ভিসাইড। এটি এডিস, কিউলেক্স ও অ্যানোফিলিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর হিসেবে পরিচিত। মানুষ, গৃহপালিত প্রাণী ও পরিবেশের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বৈঠকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত ছয় মাস ধরে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিটিআই প্রয়োগ করছে চসিক। এর ফলে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বর্তমানে নগরীতে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১৩ জনে নেমে এসেছে এবং ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা শূন্যে রয়েছে।
মেয়র বলেন, ‘এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে এবং আরও বিস্তৃত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমরা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাই। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিটিআই সংগ্রহ করা গেলে ব্যয় কমবে, একই সঙ্গে সময়মতো ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে চসিক আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কার্যকর লার্ভিসাইডের ব্যবহার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা মেয়রের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তারা জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, ডেপুটি পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর ডেভিড মু, সিনিয়র পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ, ইকোনমিক স্পেশালিস্ট আসিফ আহমেদ, কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আবির বড়ুয়াসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চসিকের পক্ষে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এমআর/বিআরইউ
