ঢাকার পার্ক- মাঠ ব্যবস্থাপনায় এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
তারা বলেন, ঢাকার মোট ১২৯ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১০টি ও ঢাকা দক্ষিণের ৩১টি ওয়ার্ডে কোনো পার্ক ও খেলার মাঠ নেই। অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ঢাকার উন্মুক্ত স্থানগুলো দখলে আর দূষণে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মাঠ-পার্ক রক্ষা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানাই।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট কর্তৃক সংস্থার সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকার পার্ক ও খেলার মাঠ : নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট-এর সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মিঠুন এর সঞ্চালনায় এবং সংস্থার পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ফুড সিকিউরিটি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিবেশবাদী ছাত্র-যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েসের সংগঠক ও সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমন, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির ইবনুল সাঈদ রানা, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক উন্নয়ন কর্মী সৈয়দা রত্না।
মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাঠ-পার্কগুলো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল নকশা প্রণয়ন থেকে বিরত থেকে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে খরচ অনেকটা কমে আসবে এবং রক্ষণাবেক্ষণও অনেক সহজ হবে। আমাদের নগরে মাঠ-পার্কের সংখ্যা যথেষ্ট অপ্রতুল। এ অবস্থায় দখলকৃত মাঠ-পার্ক ও বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় গণপরিসর হিসেবে চিহ্নিত সব স্থান পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের পাশাপাশি রাজউক, গণপূর্ত ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা দূর করতে পার্ক ও মাঠের ব্যবস্থাপনা একটি নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনা আবশ্যক।
হুমায়ুন কবির সুমন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক-মাঠ উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা হয়। এরপর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও তা বিভিন্ন ক্লাব বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। একাডেমীগুলো টাকার বিনিময়ে খেলাধুলা করলেও সাধারণ জনগণের প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনতিবিলম্বে সকল মাঠ-পার্ক নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানাই। হাইকোর্ট এ বছরের শুরুতেই ঢাকা শহরের সকল মাঠ-পার্কের তালিকা তৈরি, বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ, এবং সকলের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতের নির্দেশনা প্রদান করেছে। আমাদের প্রত্যাশা এর মাধ্যমে নাগরিকরা উপকৃত হবেন।
ইবনুল সাঈদ রানা বলেন মহানগরী, বাংলাদেশে শক্তিশালী আইন থাকা সত্ত্বেও এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা গণপরিসরের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সৈয়দা রত্না বলেন, উন্নয়ন কাজে এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা না থাকায় তাদের চাহিদার প্রতিফলন মাঠ-পার্কে থাকছে না। সকল বয়স, লিঙ্গ ও সামর্থ্যরে মানুষের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় মাঠ-পার্কের নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঠে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
গাউস পিয়ারী বলেন, আমাদের নগর পরিকল্পনায় শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা নারীদের চাহিদার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না। আমরা শিশুদের শারীরিক, মানসিক বিকাশকে গুরুত্ব দিচ্ছি না বরং খেলার মাঠগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণ করছি। বয়োবৃদ্ধরাও ঘরে আটকে থেকে বন্দি জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়ে তুলতে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।
এএসএস/বিআরইউ
