জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, আহতদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বক্তব্যে এনডিএফের সভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিক ও চিকিৎসকসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করেছেন, অন্যদিকে চিকিৎসকরা গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহতদের চিকিৎসায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
ওয়ালিউল্লাহ হোসেন বলেন, আমরা ভয়াবহ গুলিবিদ্ধ, মাথার খুলি উড়ে যাওয়া, মস্তিষ্ক বের হয়ে আসা এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো অসংখ্য ঘটনা দেখেছি। চিকিৎসকরা অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে এসব পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বহু প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা জুলাই উদযাপন করছি শুধু উৎসবের জন্য নয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার ইতিহাস জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ভবিষ্যতেও যদি কোনো স্বৈরাচার জনগণের ওপর চেপে বসে, জনগণ আন্দোলন করবে এবং সেই আন্দোলনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম জনগণের পাশে থাকবে।
বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি ও দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টার প্রসঙ্গ তুলে ওয়ালিউল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনকে টেকসই হতে না দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে চিকিৎসক সমাজ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১ জুলাই কর্মসূচির উদ্বোধন, ওয়েবসাইট চালু এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর ১৫ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম, ১৭ থেকে ৩১ জুলাই বিভিন্ন আয়োজন এবং ১ থেকে ৮ আগস্ট সমাপনী পর্যায়ের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত অনুষ্ঠান হবে আগামী ৯ আগস্ট।
মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই মেডিকেল কনফারেন্স, ‘রান ফর জুলাই’, কনটেন্ট ক্রিয়েশন প্রতিযোগিতা, শহীদ আব্দুল আহাদ কিডস ফেস্ট ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, শহীদ আলী রায়হান কালচারাল ফেস্ট, শহীদ হাজী শরীফ ওসমানকে নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জুলাই মেমোরি প্রকাশনা, জুলাই প্রদর্শনী এবং এনডিএফ '৩৬ জুলাই অ্যাওয়ার্ড'।
এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের অংশ হিসেবে গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, সাক্ষাৎকার, আলোকচিত্র, ভিডিও, সংবাদ প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রামাণ্য দলিল সংগ্রহ করা হবে।
ওএফএ/আরএফ/এমএসএ
