বিজ্ঞাপন

জাতীয় স্বার্থে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান চিফ হুইপের

জাতীয় স্বার্থে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান চিফ হুইপের

দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখবেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কতটা ঐক্যবদ্ধ। তারা নিজেদের দেশের পক্ষে কথা বলে। আমাদেরও উচিত দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় একইভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। আপনারা (সাংবাদিক) সবাই অভিজ্ঞ ও সচেতন মানুষ। তাই বিস্তারিত বলব না। শুধু একটি বিষয় মনে করিয়ে দিতে চাই। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে সহযোগিতা আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেন তিনি।  

চিফ হুইপ বলেন, আমরা এমন একটি তরুণ প্রজন্ম পেয়েছি, যারা জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এটি আমাদের জন্য বড় আশার জায়গা। তাই দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের প্রতি আমার আহ্বান—আপনারা সত্য তুলে ধরুন এবং দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।

চিফ হুইপ আরো বলেন, একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই এই বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা চাই। আমাদের লক্ষ্য, আগামী পাঁচটি বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে বর্তমানের ঘাটতি কাটিয়ে উদ্বৃত্ত বাজেট প্রণয়ন সম্ভব হবে। আমরা এমন একটি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষ ভোগ করতে পারবেন। এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, তারপরও গত কয়েক মাসে দেশে বড় ধরনের হাহাকার সৃষ্টি হয়নি। মানুষের নিত্যজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এটিই আমাদের প্রচেষ্টা।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, মানুষ আগের মতো টেলিফোনে কথা বলতেও ভয় পায় না। এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে মানুষ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারছে। এই পরিস্থিতি ধরে রাখতে তারেক রহমান দিনরাত পরিশ্রম করছেন। গভীর রাত বা ভোর—যেকোনও সময় তিনি রাষ্ট্রীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্যই তিনি এই দায়িত্ব নিয়েছেন। চাইলে তিনি বিদেশে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারতেন, কিন্তু সে পথ বেছে নেননি।

সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, আমরা চাই, আপনারাও (সাংবাদিক) এই পরিবর্তনের অংশীদার হোন। দেশের কল্যাণে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের সমাজে নেতিবাচক সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রচারিত অনেক তথ্যই ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অসংখ্য ভুয়া কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব তথ্য বিশ্বাস না করে মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, অনেক সময় ভালো উদ্যোগের চেয়ে নেতিবাচক খবরই বেশি প্রচার পায়। অতীতেও স্বাস্থ্য খাতে ভালো উদ্যোগ নানা বিতর্কে আড়ালে চলে গেছে। অথচ মানুষের উপকারে আসে—এমন কাজগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এমএসআই/জেডএস