জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো ‘ফ্রেন্ডলি গেম’ চলছে না মন্তব্য করে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, রোনালদো ও মেসি ফুটবল খেলেন। কিন্তু বাংলাদেশের সংসদে কোনো খেলা চলছে না। এখানে সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে। কেউ যদি এটিকে ‘ফ্রেন্ডলি গেম’ বলে থাকেন তাহলে সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, আমরা চাই, দেশের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল গঠনমূলকভাবে একসঙ্গে কাজ করুক। বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু বিরোধিতা করা নয় বরং তাদের দায়িত্ব যৌক্তিক বিষয়ে সমর্থন দেওয়া। প্রয়োজন হলে সরকারের সমালোচনা করা। আজ বিরোধী দল যদি কোনো যৌক্তিক সমালোচনা করে, আমরা তা গ্রহণ করব। আবার তারা যদি দেশের স্বার্থে সহযোগিতা করে, সেটিকেও আমরা স্বাগত জানাব।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত। আজ তারা বিরোধী দলে আছে, ভবিষ্যতে তারা সরকারেও যেতে পারে, আবার আমরাও বিরোধী দলে যেতে পারি। তাই আমরা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চাই। সংসদে বাজেট অধিবেশনে যে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, আমরা সেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।
জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার ও উচ্চকক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংশোধন হবে সংসদে আর সংস্কার আলোচনা হবে সংসদের বাইরে। জুলাই সনদের অনেক বিষয় বর্তমান সংবিধানের সঙ্গেই সম্পর্কিত। সংবিধানে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, আর জুলাই সনদে প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। তাই শুধু ওই ৩০টি বিষয়কে আলাদা করে বাস্তবায়ন করলে হবে না। পুরো সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে।
সংসদ সদস্যদের সামনে তিনটি পথ রয়েছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, প্রথমটি হলো নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা, দ্বিতীয়টি হলো বিদ্যমান সংবিধান স্থগিত রেখে নতুন ব্যবস্থা চালু করা, আর তৃতীয়টি হলো বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার করা। আমরা তৃতীয় পথেই এগোচ্ছি, অর্থাৎ আমরা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে চাই।
নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মূল উদ্দেশ্যের কোনো বড় পার্থক্য আমি দেখি না। প্রধানমন্ত্রীও তার সমাপনী বক্তব্যে বলেছেন, সংস্কার-সংক্রান্ত আলোচনা সংসদের বাইরে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে চলবে, আর সংসদের ভেতরে সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগোবে।
সংবিধান সংশোধনের কাজ সময়সাপেক্ষ জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, এটি দেশের সর্বোচ্চ আইন। তাই সবদিক বিবেচনা করে ধীরে-সুস্থে এগোতে হবে। এজন্যই একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আলোচনা চলবে। আমরা মনে করি, এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নয়। আলোচনা চলমান থাকলে যেকোনো সময় একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।
হামে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তার তথ্য অনুযায়ী, আগের দুই বছরে দেশে পর্যাপ্ত হামের টিকা আনা হয়নি। ফলে টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়েছে।
তিনি বলেন, শিশুমৃত্যুর বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা অবহেলা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করছেন। তার উদ্যোগে দ্রুত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে এবং সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে যেসব শিশু ইতোমধ্যে সংক্রমিত হয়েছে বা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল, তাদের ক্ষেত্রে সেই প্রভাব এখন প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা আশা করছি, চলমান টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, আপনারা জানেন, এটা মানুষও বলাবলি করে গত সরকারের সময় ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের মতো দুর্নীতি হয়েছে। সেটা তদন্তের আওতায় আনার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী ও সদস্যরাও বলেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনকে আমি বলতে চাই, যে কোনো অপরাধই অপরাধ, মানে কোনো অপরাধই ছেড়ে দেওয়ার মতো না।
এমএসআই/আরএফ/এসএম
