বিজ্ঞাপন

চুরি করতে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল

চুরি করতে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে এক জেলে সম্প্রদায়ের গৃহবধূকে (১৯) গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণের চেষ্টা ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বাধা পেয়ে, ওই যুবকের ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন লুট করে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গভীর রাতে বাড়বকুণ্ডের জেলেপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম রবিউল হোসেন। সে পাশের গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ জানান, তার স্বামী বিপ্লব দাস পেশায় একজন জেলে। বৃহস্পতিবার রাতে তার স্বামী বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ায়, তিনি ঘরে একাই ঘুমাচ্ছিলেন। গভীর রাতে রবিউল হোসেন নামের ওই যুবক ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে লাইট জ্বালায় এবং গোপনে তার ভিডিও ধারণ করে।

এক পর্যায়ে রবিউল তার গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং পরনের কাপড় টানাটানি করতে থাকে। গৃহবধূ চিৎকার ও প্রতিরোধ গড়ে তুললে রবিউল হুমকি দেয় যে, এই ঘটনা পুলিশ বা কাউকে জানালে গোপনে ধারণকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রবিউল ঘর থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং একটি মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আমি সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। শুক্রবার সকালে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর মুখে সব ঘটনা শুনি। রবিউল আগে থেকেই জানত আমি ঘরে নেই। এই সুযোগেই সে, আমার স্ত্রীর ওপর হামলা চালায়। সে এলাকায় নানা অপরাধের সাথে জড়িত। আমরা এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চোর চুরি করতে গিয়ে ওই নারীকে ঘরে একা পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। ঘর থেকে কিছু টাকা ও মোবাইল চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত সংঘবদ্ধ চোরের উপদ্রব ও মাদকাসক্ত তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রতিনিয়ত গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল হানা দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম চোর-আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই চোর চক্রের অধিকাংশ সদস্যই তরুণ এবং তারা তীব্র মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জোগাড় করতেই তারা প্রতি রাতে কোনো না কোনো এলাকায় চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে আরও কঠোর ভূমিকা রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এমআর/জেআই/এমএন