বিজ্ঞাপন

এডিস মশার লার্ভা অভিযানে ১৫ টন রড নিলামে বিক্রি, বিচার চাইলেন ব্যবসায়ী

এডিস মশার লার্ভা অভিযানে ১৫ টন রড নিলামে বিক্রি, বিচার চাইলেন ব্যবসায়ী

নির্মাণাধীন প্লটে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সাধারণত জরিমানা করা হয়। কিন্তু এবার রাজধানীর উত্তরায় লার্ভা পাওয়ার অভিযোগে শুধু জরিমানাই নয়, উল্টো প্লটে থাকা প্রায় ১৫ টন রডসহ বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মালামাল ফেরত ও বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর সড়কের ৩৬ নম্বর প্লটে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই ম্যাজিস্ট্রেটের নাম জিয়াউর রহমান।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের ক্যাপিটাল মার্কেটে জার্নালিস্ট ফোরামের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আনিছুর রহমান এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা সমিতি ঢাকার সহসভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান এবং আর্টিস্ট রিসান। সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিলাম হওয়া মালামাল ফেরত পাওয়ার দাবি জানান তিনি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পাশের বাড়ির এক দারোয়ান তাকে মোবাইল ফোন করে জানান যে, তার প্লটে ম্যাজিস্ট্রেট এসেছেন এবং এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে তার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার প্লটে রাখা প্রায় ১৪–১৫ টন রড এবং তিনটি মিকশ্চার মেশিন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং সেগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরও বলেন, তিনি সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন এবং নিজের পরিচয়পত্র দেখান। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট তার পরিচয়পত্র ফিরিয়ে দেন এবং তার সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

ভুক্তভোগীর দাবি, মশার লার্ভা পাওয়ার কারণে তিনি যখন জরিমানা দিতে রাজি হওয়ার পরও কেন মালামাল নিলাম করা হলো– তা জানতে চান, তখন ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মোবাইল কোর্টের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগে সাত বছরের জেলের হুমকি দেন এবং পুলিশ ডাকার নির্দেশ দেন।

প্লট মালিকের দেওয়া তথ্যমতে, ঈদুল আজহার পর নির্মাণকাজের জন্য তিনি সেখানে প্রায় ১৫ টনের কাছাকাছি রড, তিনটি মিকশ্চার মেশিন এবং বোরিং করার মালামাল রেখেছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষরিত মানি রসিদের মাধ্যমে ওই মালামালগুলো অন্য ব্যক্তিরা কিনে নিয়ে যান বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কাজ’ ও ‘বেআইনি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। আমি আমার মালামাল ফেরত চাই এবং এই অবৈধ নিলাম প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানাচ্ছি।’

এমএম/বিআরইউ