চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই শতাধিক ফলদ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই ভরা মৌসুমে এসব গাছ কেটে ফেলায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তারা। তবে বাগান কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি– ‘ওই জমি রাবার বাগানেরই আওতাভুক্ত’।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই তাদের মালিকানাধীন জমিতে থাকা আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আমিনুল হক ও আহমদুল হক জানান, গত বুধবার (১ জুলাই) রাতে তাদের মালিকানাধীন জমিতে থাকা আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনার জন্য তারা রাঙামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন।

তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জমিটি রাঙামাটিয়া রাবার বাগান এলাকা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এবং প্রায় এক শতাব্দী ধরে তাদের পরিবারের দখল ও ভোগদখলে রয়েছে। ওই জমিতে তারা প্রায় পাঁচ হাজার আম, জাম, কাঁঠাল, বাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ জমিটি নিজেদের দাবি করে কোনো ধরনের নোটিশ বা পূর্ব অবহিতকরণ ছাড়াই গাছগুলো কেটে ফেলেছে।
আমিনুল হক ও আহমদুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। এ বিষয়ে আমরা আইনগত প্রতিকার চাইব।’
একই ঘটনায় কৃষি উদ্যোক্তা ওয়াহিদ কাউসার মওলা হিরুও রাঙামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তার বাণিজ্যিক আমবাগানের কয়েক শ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ করেছেন।

ওয়াহিদ কাউসার মওলা হিরু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি ওই এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে একটি আমবাগান গড়ে তুলেছি। সম্প্রতি রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ জমিটি নিজেদের দাবি করে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বাগানের কয়েক’শ আমগাছ কেটে ফেলেছে। এতে আমি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।’
অন্যদিকে রাঙামাটিয়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি বাগানের ৩/৮৬ নম্বর ব্লকের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেখানে রাবার বাগান সৃজন করা হয়েছে এবং জমিটি বাগানের আওতাভুক্ত হওয়ায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
গাছ কাটার বিষয়ে রাঙামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলম বলেন, ‘আমরা কোনো গাছ কাটিনি। সংশ্লিষ্ট জমিটি রাঙামাটিয়া রাবার বাগানের মালিকানাধীন। অভিযোগকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি জবরদখল করে আছেন।’
এমআর/বিআরইউ
