বিজ্ঞাপন

৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার ‘নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ’ প্রকল্প বাতিলের দাবি

৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার ‘নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ’ প্রকল্প বাতিলের দাবি

৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নর্থ ঢাকা বর্জ্যবিদ্যুৎ (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) প্রকল্প অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লিন, বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

শনিবার (৪ জুলাই) গ্রিন লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২০ সালে কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই বিশেষ আইনের আওতায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২১ সালে বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সাড়ে চার বছর পরও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

বক্তারা বলেন, প্রকল্পের জন্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের ২০ একরের পাশাপাশি স্থানীয়দের আরও ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় ভূমি মালিক ও বর্জ্য-সংগ্রহকারী শ্রমিকরা। প্রায় দুই হাজার মানুষের জীবিকা ল্যান্ডফিলের ওপর নির্ভরশীল হলেও পুনর্বাসনের তালিকায় রাখা হয়েছে মাত্র ৪০ জনকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ২৬ টাকা ৭৯ পয়সা, যা সৌরবিদ্যুতের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের প্রায় দ্বিগুণ। উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেলে ইউনিটপ্রতি ব্যয় ৪৭ থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, একই অর্থে ৪২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব, যা থেকে বছরে প্রায় ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৪৬৭ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) ও নয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এনডিবি) ১০০ মিলিয়ন ডলার করে ঋণ দিচ্ছে। তবে বাকি অর্থায়নের একটি অংশের উৎস এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সংগঠনগুলোর দাবি, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালাতে প্রতিদিন ৩ হাজার টন নগরবর্জ্য প্রয়োজন হবে। কিন্তু বর্তমানে ডিএনসিসি এলাকায় গড়ে ২ হাজার ৭৫০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। পর্যাপ্ত বর্জ্য সরবরাহ না হলে সিটি করপোরেশনকে জরিমানা গুনতে হবে, যা বর্জ্য কমানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।প্রকল্পটি পূর্ণমাত্রায় চালু হলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর গ্যাস, ধূলিকণা ও ছাই পরিবেশে ছড়াবে। একই সঙ্গে বছরে প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে, যা জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

বেলার নীতি সমন্বয়ক বারিশ হাসান চৌধুরী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে এমন ব্যয়বহুল ও দূষণকারী প্রকল্পে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়ন গ্রহণযোগ্য নয়।

ওএফএ/বিআরইউ