বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে অজ্ঞাত ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহসহ একদিনে উদ্ধার ৩ লাশ

চট্টগ্রামে অজ্ঞাত ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহসহ একদিনে উদ্ধার ৩ লাশ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ব্যক্তির মাথাবিহীন অর্ধগলিত লাশসহ মোট তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (গতকাল) সন্ধ্যা থেকে শনিবার (আজ) বিকেলের মধ্যে এই তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। এক দিনে তিন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাখালী খালের তালুকদার ক্লাবের দক্ষিণ পাশের পানিতে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশটি বেশ কয়েক দিন আগের হওয়ায় অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং মরদেহের মাথা বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মাহমুদুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচে কঙ্কালে রূপ নিয়েছে এবং মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম শুরু করেছি। পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানায় কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন কি না, সেই তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।’

এদিকে অজ্ঞাতপরিচয় এই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাসহ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উপজেলায় আরও দুটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে উপজেলার পূর্ব বরইয়া এলাকায় উম্মে হাবিবা (২২) নামের এক গৃহবধূ ইঁদুর মারার বিষ পান করেন। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে শনিবার সকাল নয়টার দিকে আনোয়ারা সদর এলাকার ভট্টাচার্য নিবাস নামের একটি ভাড়া বাসা থেকে জিকু সর্দ্দার (৩৫) নামের এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জিকু বিলপুর এলাকার মৃত মৃদুল সর্দ্দারের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর বোনের স্বামীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

গৃহবধূ ও জেলের মৃত্যুর বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, এই দুটি ঘটনাই প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।