রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বসিলা এলাকায় এক ইমামের জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই গ্রুপের ১০ জন আহত হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) বিকালে মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত ভুক্তভোগী মো. রাসেল আহম্মেদ বলেন, বসিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের জমির সিমানা নিয়ে জাপান গার্ডেন সিটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা চলে আসছিল। সেখানে দু’পক্ষেরই জমি ছিলো। ইমামের জমিতে আমাদের কয়েকজন ছোট ভাই থাকতেন। তারা ইমামেরও আত্মীয়। আজ এ বিষয়ে সমাধান হওয়ার কথা ছিলো। এ সময়ই জমিতে অবস্থান করা আমাদের ছোট ভাই রুবেল, তন্ময় ও সাগর নামে তিনজনের উপর হামলা করে প্রতিপক্ষরা। খবর পেয়ে আমরা গেলে তারা আমাদের ওপরও হামলা চালায়। পরে আহত সবাইকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছে। আমরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ভুক্তভোগী রাসেল আরও বলেন, হামলায় বসিলা এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও মহানগর বিএনপির সদস্য এবং থানার যুগ্ম আহবায়ক আহম্মেদ হাজী ও তার লোকজন জড়িত। শান্তিপূর্ণ একটি আলোচনার জন্য আসা লোকজনের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে জাহিদ, জাবের আলা উদ্দিন, জাফর। তারা সবাই আহম্মেদ হাজীর ভাতিজা। জাফর বসিলা উত্তরমুড়া ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
অন্যদিকে জাফরের চাচা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আহম্মেদ হাজী জানান, এই জায়গা নিয়ে তিনদিন আগে সমাধানের জন্য বৈঠক করা হয়। সেখানে ইমামের যে পাওনা জমি সেটির ২৫ শতাংশ রাস্তায় চলে যাবে এবং চার কাঠা জমি দেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে আজ দুপুরে পাঁচজন টাইলসের দোকানে গিয়ে ওই বাসার দায়িত্বে থাকা একজনকে বের করেছেন। খবর পেয়ে আমার ভাতিজা পাঁচজন গিয়ে দুইজনকে আটকে ফেলে। বাকি তিনজন পালিয়ে যায়। এই ঘটনাটি দুপুর ১২ টার দিকে ঘটে পরে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য রাসেল ও কবিরসহ বেশ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার ভাতিজার ওপর হামলা চালায়। পরে আমার চার ভাতিজা ও এক নাতি আহত হয়। এই ঘটনায় আমরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমার অফিসে বিএনপি ও ছাত্রদলসহ সমঝোতার জন্য একটি মিটিং হয়। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না তারপরেও সবাই আমার নাম বলছে। আমি ঘটনা ঘটার অনেক পরে বিষয়টি জানতে পেরেছি।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএএ/এমটিআই
