সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা (মেরিটাইম লায়াবিলিটি) কনভেনশনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।
রোববার (৫ জুলাই) লন্ডনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আইএমওর মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের দলিল (ইনস্ট্রুমেন্টস অব অ্যাকসেশন) হস্তান্তর করেন।
এ সময় যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী উপস্থিত ছিলেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এসব কনভেনশনে যোগদান সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ যে তিনটি কনভেনশনে অনুসমর্থন দিয়েছে সেগুলো হলো— আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক ১৯৯২ প্রোটোকল (সিএলসি প্রোটোকল), বাংকার তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন-২০০১ (বাংকার কনভেনশন) এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন-২০০৭ (রেক রিমুভাল কনভেনশন)।
তিনি জানান, প্রতিদিন শত শত জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে বা দেশের বন্দরে আসে। এ নৌযান চলাচলের সঙ্গে তেল নিঃসরণ, বাংকার জ্বালানি দূষণ এবং জাহাজডুবির মতো ঝুঁকি যুক্ত থাকে, যা নৌ চলাচল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এসব কনভেনশনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার দায়ভার নির্ধারণ এবং বাধ্যতামূলক বিমা নিশ্চিত করা হবে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে একটি নিশ্চিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই অনুসমর্থনের ফলে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে আর বিদেশি নৌ প্রশাসনের কাছ থেকে কনভেনশন সনদ সংগ্রহ করতে হবে না। এতে সময় ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক চার্টারার, বিমা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিলম্ব এবং বিদেশি বন্দরগুলোতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিদর্শনও কমবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্বের শতাধিক দেশ ইতোমধ্যে এসব কনভেনশনের পক্ষভুক্ত। বাংলাদেশের অনুসমর্থনের ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবকাঠামোর সঙ্গে দেশের সামঞ্জস্যতা অর্জিত হলো। ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম ও উপকূলীয় উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এমএইচএন/এসএএস/জেডএস
