জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লব কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অর্জন। জুলাইয়ের শহীদরা জাতির সম্পদ। তাদের আত্মত্যাগকে দলীয়করণ করা হলে তা জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর কার্যালয়ে জুলাই বিপ্লবে শ্রমিকদের আত্মত্যাগ ও অবদান শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রমজীবী মানুষের আত্মত্যাগ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল হতো না। তাই জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান— প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনে চট্টগ্রাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের মানুষ সব সময় সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রদের নেতৃত্বের পাশাপাশি শ্রমিক, মেহনতি মানুষ ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আন্দোলনকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। এই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফলেই দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাই জুলাইকে শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে নয়, জাতীয় মুক্তি ও গণজাগরণের মাইলফলক হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। জুলাই শহীদদের সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান, গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। গণভোটে প্রকাশিত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শহীদ ফারুক হোসেন, ওয়াসিম আকরাম ও ফয়সাল আহমদ শান্তসহ সব শহীদ সমান মর্যাদার দাবিদার। তাদের পরিচয় কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, তারা বাংলাদেশের ইতিহাসের গর্বিত সন্তান। জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত বা দলীয়করণের যে–কোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের শহীদ ফারুক হোসেনের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে, আহত আবদুল আজীজ, শাহাদাত হোসেন মানিক এবং জাহাঙ্গীর মুহুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এমআর/জেআই/এমএন
