বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গৃহীত অধিকাংশ প্রকল্পে জনকল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ বিষয়ক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সৃষ্ট আর্থিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের দায়-দেনা কাটিয়ে উঠতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। তবে এ লক্ষ্যে কোনোভাবেই উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা ক্রয়ের অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, রুফটপ (ছাদে) সোলার প্রকল্প বেসরকারি খাতের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে সরকার। কৃষিজমি নষ্ট করে কোনো প্রকল্প করা হবে না; বরং পতিত জমি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে এবং তুলনামূলক উচ্চমূল্যে তা কিনতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির কারণে সরকারকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। এছাড়া বিগত সরকার প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। সেই বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি নতুন দায়ও পরিশোধ করতে হচ্ছে, যার ফলে সরকারকে প্রতি মাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি আমদানির খরচ কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুদ সংরক্ষণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প ও কৌশল নিয়ে কাজ চলছে।
ওএফএ/এমটিআই
