বিজ্ঞাপন

তথ্য উপদেষ্টা

ভারতে বসে উসকানি দেওয়া আ. লীগ নেতাদের বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কথা বলা হবে

ভারতে বসে উসকানি দেওয়া আ. লীগ নেতাদের বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কথা বলা হবে

ভারতে অবস্থান করে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত কয়েকদিন ধরে দেখছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা ভারতে পলাতক বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা নানক এবং মায়া-এরা দুজন বক্তব্য দিচ্ছেন। ঢাকাতে রক্তের বন্যা বসিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কর্মীদের বলছেন। মোহাম্মদপুর যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে না নিতে পারে, যেটা নানক বলেছেন এবং সেটা ফেসবুকে আছে। এটাকে সরকার টু সরকার কোনো কথা বলা যায় কিনা যে, এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর জন্য।

এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আপনার এই কথাটার সঙ্গে আমি একমত, ভারতে বসে তারা যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে এটা নিয়ে আগেও আমাদের সরকার থেকে কথা বলা হয়েছে, এটা বলা হবে। কারণ এদের অনেকেই মামলার আসামি, এদের অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারও কারও নামে সাজা হয়ে গেছে। কথা বলা দূরে থাকুক, তাদের তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কথা নিয়মিতভাবে বলা হচ্ছে, আমরা সেটা চালিয়ে যাব।

সম্প্রতি তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সাতজন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারের সময় ধাওয়া খেয়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে ওই নদীতে একাধিক মরদেহ উদ্ধার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়।

তুরাগ নিয়ে যেটা হয়েছে এক পক্ষ রক্তে লাল করেছে অন্য পক্ষ বলছে প্রোপাগান্ডা। সরকার বিষয়টা ক্লিয়ার করছে না কেন যে আসলে কি দেখানো হয়েছে- এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ওখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে। খুবই আনএক্সপেক্টেড, আমরা প্রায় বলি যে এটা হতে পারে না, এটা হওয়া উচিত না। কিন্তু আপনারা জানেন ঘটনাগুলো কীভাবে হয়েছে। সরকারের যে স্বাভাবিক কাজ, সরকার এগুলো তদন্ত করবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কিনা। কিন্তু আপনারা দেখেছেন ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টও আছে দেশীয় এবং দেশের বাইরের সংস্থারও রিপোর্ট আছে, যেখানে ক্লিয়ারলি দেখা গেছে আসলে তারা পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই এটা হয়েছে।

আবারও, আমরা দুঃখজনক মনে করি। আওয়ামী লীগ যারা এখনো করেন, এখনো যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি খুব দুঃখ পাই, আমি সত্যিই দুঃখ পাই, কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান। তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি। এবং প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই-রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।

আগামী ৫ আগস্টের আগেই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে বলে ব্রিফিংয়ে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

একজন সাংবাদিক জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর নিয়ে আলোচনা চলছে। কিছু চূড়ান্ত কাজ বাকি রয়েছে। জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয় সম্পন্ন করা হচ্ছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৫ আগস্টের আগেই জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন হবে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ও তুরস্ক সফর করবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই যাওয়া হবে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে সরকারের দ্বিধা নেই। জাতীয় স্বার্থই এখানে মূল বিবেচ্য।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে গম আমদানির অনুমোদন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণে কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের আয় শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাত সচল থাকলে এর সুফল অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জনগণ বিষয়টি উপলব্ধি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসএইচআর/আরএফ/জেডএস 

বিজ্ঞাপন