হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে কম দামে আইফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের এক মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের একটি দল গত ৫ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার বাদী ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবিমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
তিনি বলেন, প্রতারক চক্রটি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা এবং পরে অপারেশন ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে আস্থা অর্জন করে। একপর্যায়ে তারা জানায়, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা হবে। একই সঙ্গে তাদের অধীনে কর্মরত প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবিমা পলিসি নিতে আগ্রহী বলেও দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসার বৈধতা প্রমাণের জন্য প্রতারকরা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) ভুয়া ডকুমেন্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন জাল কাগজপত্র সরবরাহ করে। এসব নথিতে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ কেনার জন্য দুটি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাঠান। টাকা নেওয়ার পর কোনো পণ্য সরবরাহ না করে প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, পরে ভুক্তভোগী রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। তদন্তভার গ্রহণের পর প্রযুক্তিগত তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি আইফোনসহ পাঁচটি মোবাইল ফোন ও সাতটি সিম জব্দ করা হয়।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম-পরিচয় ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর বিমানবন্দরের অকশনে স্বল্পমূল্যে মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত। তদন্তে চক্রটির অন্যান্য সদস্য, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার রাজধানীর ভাটারা থানার একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন, অনলাইনে পাওয়া কথিত সরকারি অনুমোদনপত্র কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া ব্যবসায়িক প্রস্তাবে বিশ্বাস করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানায় সিআইডি। পাশাপাশি যেকোনো বিনিয়োগ বা পণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই এবং সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়।
এমএসি/আরএফ/বিআরইউ
