বিজ্ঞাপন

বংশালে কথা কাটাকাটির জেরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের অভিযোগ

বংশালে কথা কাটাকাটির জেরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনের অভিযোগ

রাজধানীর বংশালের নাজিমুদ্দিন রোড এলাকায় কথা কাটাকাটি জেরে মো. সুমন (৪০) নামে এক যুবককে হত‍্যার অভিযোগ উঠেছে দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা আক্তার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সুমন হবিগঞ্জের কমলগঞ্জ থানার ডালু গাছ বাজার এলাকার নবী মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের একটি বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা নিহত সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে দৈনিক মজুরি (ডেইলি বেসিস) ভিত্তিক কর্মচারী এবং আমিও একই ইউনিটে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে চাকরি করি। আমার স্বামী ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করতেন। গত রাতেও তিনি বাথরুমে বসে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করেন। সেটির গন্ধে আমি ঘরে থাকতে পারছিলাম না।

আমাদের নতুন বাসার ভাড়া ৩,০০০ টাকা। সকালে আমার কাছে থাকা ১,৫০০ টাকা যখন ওয়্যারড্রোব খুলে দিতে যাই, তখন দেখি টাকাগুলো সেখানে নেই। এ বিষয়ে আমার স্বামী সুমনকে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন, কিন্তু পরে স্বীকার করে বলেন যে তিনি টাকাটা নিয়েছেন এবং ফেরত দিয়ে দেবেন। এই নিয়ে আমাদের দুইজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি আমাকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন, হাতে থাকা কলমের মতো একটি জিনিস দিয়ে আমার বাম হাতে আঘাত করেন এবং পিঠে কামড়ে দেন।

আমাদের মধ্যকার ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হঠাৎ আমি দেখতে পাই তার বুকের বাম পাশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তখন আমি আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি এবং চিৎকার করতে থাকি। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সুমন আর বেঁচে নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি তার সঙ্গে যেভাবে সংসার করেছি, এভাবে কোনো মানুষ সংসার করতে পারে না। তিনি আমাকে প্রায়ই মারধর করতেন। ধস্তাধস্তির ঠিক কোন মুহূর্তে এই ঘটনাটি ঘটেছে, নাকি তিনি নিজেই কলমের মতো কোনো বস্তু নিজের বুকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন—সেই বিষয়টি আমি দেখতে পাইনি। আমি যদি তাকে হত্যাই করতাম, তাহলে আমার ২১ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যেতাম; হাসপাতালে নিয়ে আসতাম না। আমি সুমনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার প্রথম স্ত্রীর লোকজন আমাকে মারধর করে। আমার তো আর কিছুই রইল না।

অপরদিকে ঢাকা মেডিকেলে তার প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার বলেন, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন মাদকসেবন ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলে আসছিল। এই নিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডলি আক্তারও একই এলাকার অন্য একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।

বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজান জানান, আমরা খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছি এবং সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমাকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রয়েছে।

এসএএ/এমএন