বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান প্রথম পররাষ্ট্রসচিব বৈঠক, আলোচনায় যা থাকছে

বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান প্রথম পররাষ্ট্রসচিব বৈঠক, আলোচনায় যা থাকছে

পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে তারা আলোচনা করবেন। এ ছাড়া, আলোচনার টেবিলে ৭-৮টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের অগ্রগতি নিয়ে কথা হবে।

মধ্য এশিয়ার দেশটির সঙ্গে আগামীকাল বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকায় ফরেন অফিস কনসালটেশনের (এফওসি) জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর দুই দেশ আনুষ্ঠানিক পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বসবে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তাজিকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেগ কালানদার। তিনি দুই দিনের সফরে বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন তাজিকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেগ কালানদার। তার আজ সন্ধ্যায় একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধির বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা। মূলত, বুধবার ব্যস্ত সময় পার করবেন তাজিক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন সকালে ইদিবেগ কালানদার যাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি সাক্ষাৎ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে। এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যাবেন। সেখানে এফওসি নিয়ে একটি সমঝোতা সই হবে। এরপর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ও তাজিক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

dhakapost

সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, এই প্রথম বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিবেরা বৈঠকে বসছেন। বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো, জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা, সরাসরি বিমান চালুসহ নানা বিষয়ে আলোচনার সুযোগ আছে। তাজিকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ, পাট, এবং চামড়াজাত পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের থেকে আমরা জ্বালানি সহযোগিতা পেতে পারি, তুলা আনতে পারি।

ঢাকার একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রথম সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অন্তত ৫ থেকে ৬টি সমঝোতা সইয়ের প্রস্তুতি ছিল। এখন এফওসি সংক্রান্ত সমঝোতা ও দুই দেশের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা সই হবে। পরবর্তীতে ভালো কোনো উপলক্ষ্য ধরে আলোচনাধীন সমঝোতাগুলো সই করবে দুই দেশ। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, দ্বৈত কর পরিহার, সরাসরি বিমান চালু, জ্বালানি, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ভিসাসংক্রান্ত সমঝোতা।

উল্লেখ্য, তাজিকিস্তানে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ‘সমদূরবর্তী দায়িত্ব হিসেবে দেশটির বিষয়াবলি দেখভাল করেন। অপরদিকে, ঢাকায় উজবেকিস্তানেরও কোনো দূতাবাস নেই।

এনআই/এমএন

বিজ্ঞাপন