মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশেই চলছে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি, কোথাও কোথাও হচ্ছে অতি বৃষ্টি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানী ঢাকাতেও দুপুর থেকে শুরু হয়েছে থেমে থেমে বৃষ্টি। এমন বৈরী আবহাওয়া সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করলেও, জীবন-জীবিকার টানে রাস্তায় নামতে হয়েছে শ্রমজীবী মানুষদের।
বিশেষ করে রিকশাচালকদের গল্পটা অন্য রকম। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেউ মাথায় পলিথিন বেঁধে, কেউ হালকা রেইনকোট পরে, আবার কেউবা ভিজেই মানুষকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন।
দুপুর থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে ভিজেই রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে চলছেন ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক আব্দুল বারেক। বয়সের ভার আর বৃষ্টির তীব্রতা তাকে দমাতে পারেনি। জিজ্ঞেস করতেই ক্লান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘টাকার খুব দরকার বাবা। শরীরকে কষ্ট দিয়েই ভিজে ভিজে রিকশা চালাচ্ছি। সপ্তাহে সপ্তাহে লোনের কিস্তি দিতে হয়, ঘরে বসে থাকার উপায় নেই। তবে বৃষ্টির দিনে একটু ইনকাম বেশি হয়, এটাই সান্ত্বনা।’
রাতে রামপুরা ব্রিজের ওপর দেখা গেল এক করুণ দৃশ্য। শরীরে একটা পাতলা রেইনকোট জড়িয়ে জবুথবু হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপছিলেন এক রিকশাচালক। সকাল থেকেই একটানা রিকশা চালাচ্ছেন তিনি। তিনি জানান, ‘আজকে অন্য দিনের চেয়ে ইনকামটা একটু বেশি হইছে, কিন্তু শরীরটার ওপর দিয়া কষ্টও গেছে অনেক বেশি।’
বৃষ্টির এই দিনে গণপরিবহনের সংকটে সাধারণ মানুষ যখন নাকাল, তখন এই রিকশাচালকরাই হয়ে উঠেছেন যাতায়াতের মূল ভরসা। তবে বাড়তি আয়ের আনন্দের চেয়েও তাদের এই টিকে থাকার লড়াইয়ে মিশে আছে ঋণের বোঝা আর পেটের তাগিদ। দিনশেষে বৃষ্টিভেজা এই ঢাকা শহরে তাদের কষ্টের উপার্জনেই সচল থাকে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের সংসার।
বিআরইউ
