বিজ্ঞাপন

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান

টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের আশঙ্কার মধ্যে চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আগে জীবন, তারপর অন্য সবকিছু। কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে ফিরে যাবেন না।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে আকবর শাহ সংলগ্ন ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক।

কাদা, টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তিনি ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর এবং শান্তিবাগ (পানির ট্যাংক এলাকা) ঘুরে দেখেন।

এ সময় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং মাঠে দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি ১ নম্বর ঝিল সংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে আশ্রয় নেওয়া নারী, শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে কথা বলে হাতে মেগাফোন নিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার তাদের পাশে রয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা সবাই এসেছি, যাতে আপনাদের মধ্যে কোনো ধরনের ভয় বা সংকোচ কাজ না করে। সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়। আপনারা নিরাপদে থাকবেন। কারও কোনো বিশেষ প্রয়োজন হলে আমাদের জানাবেন।

তিনি জানান, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের নির্দেশনা মেনে চলারও আহ্বান জানান তিনি।

শুধু নির্দেশনা নয়, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোর হাতে নিজেই শুকনা খাবার তুলে দেন জেলা প্রশাসক। শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রবীণদের খোঁজখবর নেন এবং সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য বিশুদ্ধ পানীয় পানি ও মিনারেল ওয়াটারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, আজ এখানে যারা এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের হাতে শুকনা খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে মিনারেল ওয়াটারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, আগের রাতে ২৫-২৬টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হলেও পরে তারা আবার ঘরে ফিরে গিয়েছিল। 

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পাহাড়ধসের বড় দুর্ঘটনাগুলো সাধারণত গভীর রাতে ঘটে। তাই কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া উচিত নয়। তবে কেউ ঘরবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দলগতভাবে গিয়ে দেখে আসার সুযোগ রাখা হবে।

জেআই/জেডএস