বিজ্ঞাপন

বয়স বাড়লেও রেজিয়া বেগমের জীবন সংগ্রাম থেমে নেই

বয়স বাড়লেও রেজিয়া বেগমের জীবন সংগ্রাম থেমে নেই

প্রতিদিন সকালে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য রেললাইনের পাশে একটি বাজার বসে যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ফকিন্নি বাজার’ নামে। এ বাজারে দেখা দেখা যায় অনেক বয়স্ক মানুষজন সবজি, ফল বিক্রি করেন।

বাজারের এক কোনায় বৃষ্টিতে কাদামাখা এক জায়গায় কিছু কলার ভাগা নিয়ে বসেছেন রেজিয়া বেগম। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মা ৭০ বছর বয়সী রেজিয়া বেগম মাথায় কাগজ দিয়ে কলা বিক্রি করছেন। এসব কলা তিনি ভোরে কাওরানবাজার আড়ত থেকে কুড়িয়ে নিয়ে আনেন। তিন ভাগা কলা বিক্রি করেন ২০ টাকায়। দিনে তার রোজগার হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এ দিয়েই কষ্টে তার দিন চলে।

রেজিয়া বেগম বলেন, কাছেই এক মেয়ে থাকেন কিন্তু ওর ঘর ছোট, পরের ছেলের ঘরে থাকতে চাই না, তাই তেজগাঁও রেললাইনের এক ঝুপড়ি ঘরে থাকি। দুই ছেলে আছে তাদের সংসার বড়। আমাকে কি দেখবে। তাই আমারটা আমিই চালাই।

এ বাজারের ব্যবসায়ীদের অনেককেই দেখা যায় বয়স্ক। মদীনা নামের এক নারী ভাগায় মশলা, শুঁটকি ও ছটাকে তেল বিক্রি করছেন। দুই বছর হলো স্বামীকে হারিয়েছেন। তিন ছেলের মা হলেও এখনো সংসার, বাসা ভাড়া চালাতে হয় তার নিজেরই। 

মদীনা বলেন, দুই ছেলে খোঁজ নেয় না। ছোট ছেলে আছে তাকে নিয়েই সংসার। তার একদিন কাজ হলে আরেকদিন হয় না তাই এখনো আমাকেই সংসারে ঘানি টানতে হয়।

৭০ বছর বয়সী বছির মিয়া। সকালে কাওরানবাজার থেকে শাক কিনে নিয়ে এসেছেন। নানা রকম শাক বেধে বেধে বিক্রি করছেন। মাঝে মাঝে ক্লান্ত শরীরে ঘুমে তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। এই বয়সেও কাজ করার কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, আমারটা আমি করে খাই কারও ধার ধারি না।

যে বয়সে আরাম, চিকিৎসা ও সেবা প্রয়োজন সে বয়সে এসেও জীবন সংগ্রাম চালাতে হচ্ছে এসব সংগ্রামী নিম্নআয়ের মানুষদের।

আরএফ/বিআরইউ