১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি জানান, এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কার্যক্রম সরকার সমর্থন করে না। এ লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা, মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও নীতি-নৈতিকতা বিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ কার্যকর বিধান এবং গুজব, ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রেস কাউন্সিলের স্বপ্রোণোদিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে বাসসে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নসংক্রান্ত কয়েকটি রিট মামলা উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত পরিবেশ, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশ, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচারসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে।
সংরক্ষিত আসনের আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পডকাস্ট, ব্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টসমূহের বিষয়বস্তু, প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান এবং নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি যুগোপযোগী নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
যশোর-৬ আসনের মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মোট তিন হাজার ৩৩৮টি নিবন্ধিত পত্রিকা রয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা এক হাজার ৪৩৬টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা এক হাজার ২৩১টি, মাসিক পত্রিকা ৪৫২টি, পাক্ষিক পত্রিকা ২১৫টি এবং অর্ধ-সাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকার সংখ্যা ৫৪টি।
ঢাকা-১৮ আসনের এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থী সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করলে কাউন্সিলের শুনানিতে দোষী সাব্যস্ত হলে বিবাদীকে সতর্ক, ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করে রায় প্রদান করা হয়।
এমএসআই/এমএসএ
