রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং ড্যাপ বাস্তবায়নে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, শেয়ার বেজ ব্যবসায় তৈরি হচ্ছে নতুন নীতিমালা।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের ২০ জনের বেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
অন্যদিকে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে রিহ্যাব পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকগণ সভায় অংশ নেন।
রিহ্যাবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন– প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এবং রিহ্যাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আউয়াল, সাবেক প্রেসিডেন্ট তানভিরুল হক প্রবাল, বিটিআই এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এফ আর খান , রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, সংসদ সদস্য এম ফখরুল ইসলামসহ রিহ্যাবের সাবেক নেতা ও আবাসন উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের আবাসন শিল্পের বিদ্যমান সংকট, পরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ এবং ড্যাপ বাস্তবায়নের ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে ড্যাপের বিভিন্ন বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে উদ্ভূত সমস্যাগুলো তুলে ধরে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বৃদ্ধি, সেটব্যাক সংক্রান্ত বিধান পুনর্বিবেচনা, উচ্চ ভবন নির্মাণের সুযোগ সম্প্রসারণ, সোয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের বাস্তবতা, প্লটের আকার ও অবস্থান অনুযায়ী নীতিমালার নমনীয় প্রয়োগ, নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আবাসন উন্নয়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূরীকরণের বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমান ড্যাপের কিছু বিধান বাস্তব প্রয়োগে আবাসন উন্নয়ন কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। ফলে একদিকে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
সভায় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং উন্নত অবকাঠামো বিবেচনায় যৌক্তিকভাবে ফ্লোর এরিয়া রেশিও বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত উল্লম্ব নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া সোয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রকল্পের ধরন, জমির পরিমাণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা বিবেচনায় নমনীয় নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে ৫ কাঠা বা ছোট আকারের প্রকল্পে সোয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সেটব্যাকসহ বিভিন্ন কারিগরি শর্ত পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আবাসন খাতে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া ভবন নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব রিহ্যাবকে অর্পণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়, যেন যোগ্য ও নিয়ম মেনে নির্মিত ভবনের সনদ প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, কার্যকর ও অংশীদারিত্বমূলক করা যায়।
রিহ্যাব নেতারা বলেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৯টিরও বেশি লিংকেজ শিল্প জড়িত। তাই আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী, বিনিয়োগবান্ধব ও সময়োপযোগী নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
সভায় উভয় পক্ষই দেশের স্বার্থে রাজউক ও রিহ্যাবের যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। আবাসন খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিতকরণ এবং জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
এএসএস/বিআরইউ
