দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। আজ (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
এর আগে আজই নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনোত্তর গেজেট প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখার সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর (২৭৯ চট্টগ্রাম-২) আজ সন্ধ্যা সাতটায় শপথবাক্য পাঠ করবেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২৭৯ চট্টগ্রাম-২)-আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের নাম-ঠিকানা সংবলিত প্রজ্ঞাপন ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে ঘোষণা করেন– চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন। আদালত তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২ জুলাই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যরিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
মামলার বিবরণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে জানা যায়, সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের ওই আদেশ স্থগিত করেন এবং একই সঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন।
পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও তার ফল প্রকাশ করা যাবে না– এমন নির্দেশনা ছিল আদালতের।
পরবর্তী সময়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফল প্রকাশ করা হয়নি। এরপর জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের করা আপিলের শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ আদেশ দেন। আদেশে আপিল নিষ্পত্তি করে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুলের নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে এবং সংসদ সচিবালয় তার শপথের আয়োজন করে।
এমএসআই/বিআরইউ
