দুর্নীতির এক মামলায় ভারতে অবস্থানরত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দেওয়া চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আমলে গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে পি কে হালদারসহ ১২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পলাতক ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।
পরোয়ানা জারি হওয়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন, মো. নূরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, মো. নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ আবুল হাসেম, এম এ হাশেম, জহিরুল আলম, মো. নওশেরুল ইসলাম, রাশেদুল হক, আল মামুন সোহাগ, রফিকুল ইসলাম খান ও মর্জিনা বেগম।
অন্যদিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, শঙ্খ বেপারী, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, নাহিদা রুনাই, রাফসান রিয়াদ চৌধুরী।
মামলার বিবরণী থেকে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে, প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নামসর্বস্ব/কাগুজে প্রতিষ্ঠান "মুন এন্টারপ্রাইজের" নামে রেকর্ডপত্র প্রস্তুত করে তা সঠিক হিসাবে ব্যবহার করে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিককে ঋণ পেতে এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের গ্রহীতা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্যদের প্রত্যক্ষ সহায়তার মাধ্যমে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ভূয়া ঋণের কাগজপত্র প্রস্তুত করেন। পরবর্তী সময়ে তা সঠিক হিসাবে ব্যবহার করে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেন।
আরও বলা হয়, পরে বিভিন্ন হিসাবে লেয়ারিং এর মাধ্যমে এই অর্থ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায়, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই ঘটনায় ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এনআর/এসএম
