বিজ্ঞাপন

চসিক-ডব্লিউআরআই কর্মশালা

অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সড়কে মৃত্যু কমানোর উদ্যোগ

অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সড়কে মৃত্যু কমানোর উদ্যোগ

চট্টগ্রাম নগরের সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, নিরাপদ সড়ক নকশা ও গতিনিয়ন্ত্রণে সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নগরের দ্য পেনিনসুলা চিটাগং হোটেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের (ডব্লিউআরআই) যৌথ উদ্যোগে ‘স্পিড রিডাকশন থ্রু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিজাইন (অবকাঠামোর নকশার মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ)’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় চসিকের ১৫ জন প্রকৌশলী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। চসিক জানায়, ২০২২ সাল থেকে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটির (বিআইজিআরএস) সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নগরের সড়ক নিরাপদ করতে কাজ করছে তারা। নিরাপদ সড়কের নকশা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, সড়ক নিরাপদ করতে চসিক ও বিআইজিআরএসের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে সিএমপি। দুর্ঘটনা কমাতে নগরে গতিসীমার নির্দেশিকা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি চালক ও সড়ক ব্যবহারকারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, নগরের ৫৯টি স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দুটি মোড়ে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এআই ক্যামেরার পাশাপাশি সড়ক চিহ্ন, পথচারী পারাপারের সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে। তবে সড়ক ব্যবহারকারীরা ট্রাফিক আইন না মানলে শুধু চসিক ও সিএমপির উদ্যোগে সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের, আর সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। দুই প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করলে সড়ক নিরাপদ করা সহজ হবে।

কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে গতি ও সড়ক নিরাপত্তার সম্পর্ক, নিরাপদ সড়ক নকশার মূলনীতি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং অবকাঠামোভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। অধিবেশন পরিচালনা করেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার মাইরিক পালা, ডব্লিউআরআই ইন্দোনেশিয়ার আরবান রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার রেত্নো উইহানেস্তা এবং ডব্লিউআরআইয়ের স্থপতি ফারজানা ইসলাম তমা ও আরিনা তাহনিম।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত গতি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নকশা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক অবকাঠামো চালকদের নিরাপদ গতিতে চলতে উৎসাহিত করতে পারে। এতে পথচারী, সাইকেল আরোহী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সব সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

দিনব্যাপী কর্মশালার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিক নকশা অনুশীলনে অংশ নেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের সড়ক পরিবেশ বিশ্লেষণ করে যানবাহনের গতি কমাতে উপযোগী অবকাঠামোগত সমাধান প্রস্তাব করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।

এমআর/বিআরইউ