এসএমই ফাউন্ডেশন এবং জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা’ প্রতিযোগিতায় উদ্ভাবনী পরিকল্পনা উপস্থাপন করে ২৫ জন উদ্যোক্তা পেয়েছেন ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা-ইউনিডো, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, উদ্ভাবনী পরিকল্পনা ও পণ্য প্রদর্শন এবং সার্কুলার উদ্যোগ বিষয়ে নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. ফাহমিদা খানম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, বিআইএম-এর মহাপরিচালক মো. সালিম উল্লাহ, ইউনিডোর ইউনিট চিফ জেরোম স্টাকি এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার, নরওয়ে দূতাবাসের প্রোগ্রাম অফিসার শাহপার সেলিম, জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সবুজ প্রযুক্তির প্রসার এবং জলবায়ু পরিবর্তন উপযোগী উদ্যোগে বাড়ানো প্রয়োজন। এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউনিডো -এর যৌথ উদ্যোগে দেশে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সার্কুলার অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হয়।
কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী উদ্ভাবনী ও টেকসই ব্যবসায়িক সমাধানসমূহ চিহ্নিতকরণ, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিকীকরণ সহায়তা এবং বিনিয়োগ সংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর অংশ হিসেবে আয়োজিত প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা’ প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে উদ্যোক্তারা আবেদন করে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নারী, শিক্ষার্থী, বেসরকারি সংস্থা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের ৬৪১ জন উদ্যোক্তার কাছ থেকে পাওয়া আবেদন যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০জন উদ্যোক্তার মধ্য থেকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয় ২৫জন উদ্যোক্তা।
তাদের মধ্যে প্রথম ৩ জনকে ৫ লাখ টাকা করে, পরবর্তী ৭ জনকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে এবং পরবর্তী ১৫জন উদ্যোক্তাকে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি উৎপাদন ও ভোগের প্রতিটি ধাপে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি, পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহার বাড়াতে পারি এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে পারি, তবে একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার অভাবে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের প্রতিবেদনে বলা আছে, দেশে বছরে ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে পুনর্ব্যবহার হয় শতকরা মাত্র ৩১ ভাগ। শুধু ঢাকায়ই প্রতিদিন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয় সারা দেশের শতকরা ১০ ভাগ বা ৬৪৬ টন। পুনর্ব্যবহার হয় শতকরা মাত্র ৩৭ ভাগ। সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। এই উদ্যোগের ফলে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য ৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) এবং ১২ (দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন) বাস্তবায়ন সহজতর হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠান। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে।
এ খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা এবং এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০ শতাংশই নারী-উদ্যোক্তা।
এএসএস/আরএফ/বিআরইউ
