বিজ্ঞাপন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে নারী-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির দাবি

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে নারী-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির দাবি

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের নীতি ও কৌশলপত্রে নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও অংশগ্রহণ স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবন, কর্মসংস্থান, আয়, নিরাপত্তা ও অধিকার বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি (উই) প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে জ্বালানি-খাতের নীতি ও নীতিগত উপকরণসমূহের পর্যালোচনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এ দাবি জানানো হয়।

সংলাপে খসড়া জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) এবং রুফটপ সোলার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশিকা জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা হয়।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের রাইটস অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামসের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, বর্তমান খসড়া কৌশলপত্র ও নির্দেশিকায় নারী উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। 

তিনি বলেন, নীতিকে কার্যকর করতে আইনগত ভিত্তি প্রয়োজন এবং খসড়া নীতিমালা সবার মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এমজেএফের লিড-ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহিশন ওয়াসিউর রহমান তন্ময় বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ ছাড়াই খসড়া দলিল দুটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং সহজ ঋণ ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। 

সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের মতামতের ভিত্তিতে আরও বাস্তবসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে শুধু প্রযুক্তিগত লক্ষ্য নয়, কত মানুষ এর সুফল পাবে সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা তৈরি, সহজ অর্থায়ন, সামাজিক নিরীক্ষা, জবাবদিহি, স্থানীয় কর্মসংস্থান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নীতিতে স্পষ্টভাবে যুক্ত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নীতি প্রণয়নের আগে শুধু সরকারি সংস্থা বা বিশেষজ্ঞদের নয়, স্থানীয় জনগণ, নারী সংগঠন, কৃষক, উদ্যোক্তা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া জরুরি। কারণ মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া কার্যকর ও টেকসই নীতি প্রণয়ন সম্ভব নয়।

জেইউ/আরএফ/এসএম

বিজ্ঞাপন