বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবারের সংসদ অধিবেশন

বৈদেশিক নতুন শ্রমবাজার সুখবর, খাদ্যে ভেজালে উদ্বেগ

বৈদেশিক নতুন শ্রমবাজার সুখবর, খাদ্যে ভেজালে উদ্বেগ

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের আজ ছিল ২২তম কার্যদিবস। অধিবেশনে কর্মসংস্থান, বৈদেশিক  নতুন শ্রমবাজার, খাদ্য নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্দশা এবং পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের পুনর্বাসনসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান যুদ্ধে ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু ও চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে অন্তত ৩০ বাংলাদেশি যাওয়ার বিষয়েও সংসদে তথ্য তুলে ধরা হয়।

এছাড়া দেশে মদ্যপান, মদ্য জাতীয় পানীয় ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ এর বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করেও তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে মাদকে ভেজাল নেই, কিন্তু খাদ্যে ভেজাল থাকার কথাও বলেছেন সংসদ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম সেশনে সভাপতিত্ব করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বাদ আসর দ্বিতীয় সেশনের সভাপতিত্ব করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি ট্রেড/কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

নতুন শ্রমবাজারে জোর

সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ চুক্তির খসড়া পাঠানো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য হলেও ইরান, লেবানন ও সিরিয়াসহ ওই অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে কর্মী পাঠাতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বাজার সুসংহত করার পাশাপাশি বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ে নতুন চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানো সহজ করতে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা সেন্টার স্থাপনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে ১২ বাংশাদেশির মৃত্যু

নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে ১ জনের মরদেহ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে। ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। লেবাননে ৫ জন, সৌদি আরবে ৩, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২, ইরাকে ১ এবং বাহরাইন ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধপরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ হতে প্রবাসী কর্মী বিভিন্ন সময়ে ফেরত আনা হয়।

রপ্তানিতে পঞ্চম থেকে চা আমদানির দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য সংসদ মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এক সময় বিশ্বে চা রপ্তানিকারক দেশ হিসাবে পঞ্চম স্থান দখল করলেও এখন আমদানিকারক দেশের তালিকায় উঠে গেছে। গত কয়েক বছর অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে চা আমাদানি করা হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চা রপ্তানির পরিমাণ আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে ৯৪.৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়, যা দ্বারা দেশিয় চাহিদা পূরণের পর ১.৬৪ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করা হয়। ২০২৫ সালে মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি করা হয়। দেশীয় চা শিল্প সুরক্ষার লক্ষ্যে চা আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। চা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৭২টি চা বাগানে ভর্তুকি মূল্যে রাসায়নিক সার দিচ্ছে।

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের বাড়ি তৈরি করে দেবে সরকার

প্রতি বছর পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানি ঠেকাতে পাহাড়ের নিচে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সরকারি এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। 

জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ধসের কারণে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে ৫ জন, কক্সবাজারে ১৯, রাঙ্গামাটিতে ১ এবং বান্দরবানে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে আশ্রিত লোকজনের জন্য সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি এবং প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পাহাড়ের নিচে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রতিবছর যে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকারের হাতে অনেক পরিত্যক্ত খাস জমি এবং আবাসন মন্ত্রণালয়ের জমি রয়েছে। সংসদ সদস্যরা যদি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করে ভূমিকা রাখেন, তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সেসব নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসন ও বাড়ি বানিয়ে দিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভবিষ্যতে যাতে পাহাড় ধসে আর একটিও প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধে ময়দানে ৩০ বাংলাদেশি

লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক রাশিয়ায় যান। পরে তাদের পরিবার অভিযোগ করেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সরকার তদন্ত শুরু করে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। 

মন্ত্রী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ৩০ জনের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাকি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশা করছে সরকার।

মাদকে ভেজাল নেই, কিন্তু খাদ্যে ভেজাল

সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়তের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার বলেছেন, বাজারে দেখতে পাচ্ছি, খাদ্য রয়েছে, বিশেষ করে এই ফলের মৌসুমে ফলের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। কোন ফলটি যে কিনবো, কোনটি যে ফরমালিন মুক্ত, কোনটি যে আমার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, সেটা ডিসাইড করতে পারি না। এই অবস্থা কতদিন চলবে? আসলে আমরা দেখি, মাদকের মধ্যে ভেজাল নেই, কিন্তু খাদ্যের মধ্যে ভেজাল। এটা বড়ই আশ্চর্যজনক বিষয়। ভেজালের দুনিয়া, কিন্তু মাদকে ভেজাল নেই। সম্পূরক প্রশ্নের খাদ্যমন্ত্রীর কাছে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য খাদ্যের মান সংরক্ষণ এবং জনগণ যেন ভেজালমুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে পারে তার জন্য সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।

জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, আমাদের দেশে এই খাদ্যে ভেজাল কারণে বিভিন্ন ধরনের অসুখ যেমন ক্যান্সার, কিডনি রোগ থেকে শুরু করে ব্যাপকভাবে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অত্যন্ত কনসার্ন। গতকালই এই ভেজাল বিরোধী অভিযানগুলো পরিচালনার জন্য যারা কাজ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট, তাদেরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মন্ত্রীকে নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদানের জন্য জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেছেন। গতকাল সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভেজালমুক্ত খাদ্য যাতে পরিবেশন হয়, এজন্য যারা কাজ করেন ভোক্তা অধিকারসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, আমরা সম্মিলিতভাবে এটি একটা প্রচেষ্টার উদ্ভাবন করব। সেই অনুযায়ী চেষ্টা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত করতে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা দরকার, সে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সচেষ্ট হবো। জবাবদিহিতার সঙ্গে এ সরকার কাজ করছে। এক্ষেত্রেও আমরা সাকসেস হব।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা দূর করার জন্য আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সরকার ভারতের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

বাণিজ্যমন্ত্রীর হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত-বাংলাদেশের ১১ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১ হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা দূর করার লক্ষ্যে আমদানি নির্ভরতা হ্রাসকরণে সরকার দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিকে উৎসাহিত করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯-এ দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সুষ্ঠু ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর সহজ, স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জামায়াতের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আবদুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে দুটো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটানের সঙ্গে এবং ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ২০২ গন্তব্যে ৮১২টি পণ্য রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ওভেন পোশাক, নিটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ, কৃষিজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়া-চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা এবং প্রকৌশল দ্রব্যাদি রপ্তানি করে ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়। যা মোট রপ্তানি আয়ের ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

বগুড়া-৬ রেজাউল করিম বাদশার প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, আন্তর্জাতিক বিমা ব্যবস্থা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সাময়িক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, এলএনজি, এলপিজি এবং সামুদ্রিক পরিবহন ব্যয়ের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরাসরি এ সংঘাতের পক্ষ না হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় কিছু পরোক্ষ অর্থনৈতিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত সংঘাতজনিত কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বা ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো প্রত্যক্ষ ও পরিমাপযোগ্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা হতে উত্তরণের ফলে তৈরি পোশাক খাতসহ রপ্তানি খাত কিছু নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা, সহজ উৎসবিধি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার সুবিধায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সরকার সরকার এসব সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা অব্যাহত রেখে জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ৩২টি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বাস্তবায়ন জোরদার করা হয়েছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে বলে সরকার আশাবাদী।

‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ দু’টি বিল প্রত্যাহার  

দেশে মদ্যপান, মদ্য জাতীয় পানীয় ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ এর বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করেও তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট ২০২৬’ বিলটিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিন বিল দুটি উত্থাপন করেন। এর পর বিল দুটি প্রত্যাহার করেন নেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

বেসরকারিভাবে উত্থাপিত বিল দুটি উত্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যে দুটি আইন এনেছেন সে দুটি আইন আছে। আমরা এই সংসদে এই অধিবেশনে জুয়া আইন ২০২৬, বিল পাস করেছি। অলরেডি পাস হয়েছে। আরেকটি হলো—২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন। সে আইনের সেকশন দুই এর সাব-সেকশন পাঁচ, সেকশন দুইয়ের সাব-সেকশন ২৪, সেকশন দুইয়ের, সাব-সেকশন ২৯ এবং সেকশন ১১ পড়লে উনি যে উদ্দেশ্যে বিলটা আনছেন ওটা কাভার হয়ে যায়। তাই এই বিলটি প্রত্যাহারের জন্য উনাকে অনুরোধ করছি। এরপর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিলটি প্রত্যাহার করে নেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদকে বলেন, যেহেতু সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আইনমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি উত্থাপন না করার জন্য সম্মত হয়েছেন সেহেতু বিলটি আমি আর ভোটে দিচ্ছি না।  

এমএসআই/এসএম