গত কয়েকদিন যাবৎ ঢাকাসহ সারাদেশেই চলছে ভারী বর্ষণ। উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় থাকার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। রাজধানীতে গত কয়েকদিন যাবৎ থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
শুক্রবার( ১০ জুলাই) সকাল থেকে হচ্ছে ভারী বর্ষণ।
এমন বৃষ্টির দিনেও রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন আব্দুল করিম (৬০)। নতুনবাজার রিকশা গ্যারেজ থেকে রিকশা ভাড়া নিয়ে এসে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করছে যাত্রীর জন্য। জুবুথুবু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুল করিমকে বৃষ্টির মধ্যে রিকশা চালাচ্ছেন কেন? জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠেন, কিস্তির টাকার টেনশন মাথায় ঘুরে, তাই এই বৃষ্টির মধ্যেই রিকশা নিয়ে বের হয়ে গেছি। জমি জমা নাই তাই হাতের উপরই সংসার। ডেইলি ৫০০ টাকা খরচ আছে, বাড়িতে টাকা পাঠান লাগে। টাকা উঠিয়েছি, ১০ হাজার টাকা কিস্তি দেওয়া লাগে মাসে। রিকশা চালাইয়া এক মেয়েকে বিএ পাশ করাইছি, আরেক পোলা(ছেলে) মেট্টিক পরীক্ষা দিয়েছে।

সংসার চালানোর মত ছেলে নাই জিজ্ঞেস করলে বলেন, আছে। আজকালকার ছেলেদের বিয়ে করালে পরে ছেলেরই হয় না, পরের মাইয়ার কাছে ছেলেকে দিলে ছেলে আর থাকে। বেতন পায় ১৮ হাজার, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে ৮ হাজার দিয়া, পরে দেখা যায় আমারই টাকা দিতে হয়। শেষে দুঃখ করেই বলে উঠলেন, কপালই ভালো না, বাপের ৬০ বিঘা জমি ছিলো, যমুনা নদীতে তলিয়ে গেছে।

দুই নাতিকে ভ্যানে বসিয়ে এই বৃষ্টির মধ্যে ভ্যান চালিয়ে কাঁঠাল নিয়ে যাচ্ছেন সিদ্দিক মিয়া। কাক ভেজা হয়ে কাওরান বাজার থেকে ৭০০ টাকার কাঁঠাল নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রির জন্য। বিক্রি না হলে গরুরে খাওয়ায় দেবেন। আফতাবনগর জমির কেয়ারটেকার হিসেবে থাকেন আর গরু পালেন। লোন করে গরুও কিনেছেন দুইটি। মাসে গরুর টাকার কিস্তি দিতে হয়। যে টাকা বেতন পাই তা সংসার চালিয়ে কিস্তির টাকা দিতে হিমশিম খাই। গরু দিয়ে এখনো টাকা ইনকাম নাই। তাই বৃষ্টির মধ্যেই কাওরান বাজার কাঁঠাল নিতে গিয়েছিলাম। নাতি দুইজন উঠে পরলো ভ্যানে।

এমন ঝুম বৃষ্টির ছুটির দিনে আরাম আয়েশ আর খিচুড়ি রান্না কথা একদিকে চললেও, অন্যদিকে এমন ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কিস্তির টাকার টেনশন নিয়ে অনেক নিম্ন আয়ের মানুষেদেরকে জীবন সংগ্রাম চালাতে হয়।
জেআই
