রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬ চললেও বৃষ্টি ও পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে এখনো প্রত্যাশিত জমজমাট হয়নি। মেলায় দেড় লাখ টাকার বনসাই থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফল, ফুল ও শৌখিন গাছের চারা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। বিক্রেতারা বলছেন, বয়স্ক ক্রেতারা দেশি ফলের গাছের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখালেও তরুণদের ঝোঁক বিদেশি ফলের চারার দিকে। তবে সব মিলিয়ে ফলের চারার তুলনায় ফুলের চারার বিক্রিই বেশি হচ্ছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বাণিজ্য মেলায় ঘুরে ও ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

মেলার তথ্য কেন্দ্রের সূত্র মতে, জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬ মেয়াদকাল ৩০ দিন। গত ৯ জুলাই হতে ৭ আগস্ট পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় স্টলের সংখ্যা ১২০টি। সরকারি স্টল ৯টি, নার্সারি সিঙ্গেল ৪৭টি, নার্সারি ডাবল ২২টি, বেসরকারি ও অন্যান্য স্টল ২০টি রয়েছে।
মেলার তথ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা (সমাজবিজ্ঞানী) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ৯ জুলাই ২৫ হাজার ৯০০টি বিক্রি হয়েছে। গতকালকের রিপোর্ট এখনো স্টল মালিকদের কাছ থেকে আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। সেটা বিকালে দিতে পারবো। বর্তমান ১২০টি স্টল রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালে ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯১ চারা বিক্রি হয়েছিল। গতবছর ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ২৭৪ টাকা বিক্রি হয়েছিল। এবার তার চেয়েও বেশি বিক্রি প্রত্যাশা করছি। মেলায় সকালের চেয়ে বিকালের দিকে মেলায় দর্শনার্থী ও ক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জাতীয় বৃক্ষ মেলার বিভিন্ন নার্সারির স্টলে বিরল ও উচ্চমূল্যের গাছের চারা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সেখানে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফল, ফুল ও শৌখিন গাছের চারা রয়েছে। শুধু ফল কিংবা ফুল নয়, পাশাপাশি ওষুধি গাছ থেকে শুরু করে অফিসের জন্য সৌখিন গাছও রয়েছে। তবে মেলায় এবার বাশেঁ বাহারি রকমের চারা শোভা পেয়েছে।

মেলার মহানন্দা নার্সারির স্টলে দেড় লাখ টাকার বনসাই প্রদর্শন করা হচ্ছে। একই স্টলে ৫০ হাজার টাকার জাপানি ফল পার্সিমুন এবং ৫০ হাজার টাকার রামবুটানের চারাও রয়েছে। দাম বেশি হলেও এসব বিদেশি ও সংগ্রহযোগ্য গাছ নিয়ে দর্শনার্থীদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
আশুলিয়া থেকে আসা সায়েম নার্সারির বিক্রেতা প্রতিনিধি মো. সায়েম বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা অনেক কম। আবার অনেকেই জানেন না যে মেলা শুরু হয়েছে। আগে সাধারণত জুন মাসে মেলা হতো, এবার জুলাইয়ে শুরু হওয়ায় অনেকের প্রস্তুতিও ছিল না। বয়স্ক ক্রেতারা দেশি ফলের গাছ বেশি খোঁজেন, আর তরুণদের আগ্রহ বিদেশি ফলের চারার দিকে।
কোয়ান্টাম ব্যাম্বোরিয়ানের বিক্রেতা শামীম আহমেদ জানান, তাদের স্টলে প্রায় ২০০ প্রজাতির বাঁশের চারা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু চীনা মোসো বাঁশ। তিনি বলেন, চীনা মোসো বাঁশের প্রতিটি চারার দাম ৩০ হাজার টাকা। এটি মূলত ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভালো জন্মে এবং দ্রুত বড় হয়।
একই প্রতিষ্ঠানের কাশরুল পাশা বলেন, বাংলাদেশে এখনো এই বাঁশ খুব বেশি পরিচিত নয়। সংগ্রাহক এবং সৌখিন বাগানপ্রেমীরাই বেশি কিনে থাকেন। ৩০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের চারা রয়েছে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে শুধু ঘুরে দেখতে এসেছেন, আবার কেউ কেউ নিজের বাড়ি বা ছাদবাগানের জন্য গাছ কিনছেন। তবে বিক্রেতাদের ভাষ্য, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেলের দিকে কিছুটা ভিড় বাড়ে এবং বিক্রিও তখন বেশি হয়।

মেলায় আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি মাত্র গতকাল জানতে পেরেছেন যে জাতীয় বৃক্ষমেলা এখনো চলছে। আগে থেকেই তার ধারণা ছিল, মেলা হয়ত শেষ হয়ে গেছে। পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে মেলার খবর পেয়ে আজ আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠে এসেছেন। তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনায় লাগানোর জন্য কয়েকটি ফলদ গাছের চারা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। মেলার প্রচারণা আরও বেশি হলে অনেক মানুষ সময়মতো খবর পেতেন এবং দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়তো।
এমএসআই/এমএন
