বিজ্ঞাপন

তথ্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং অ্যাকাডেমি’

তথ্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং অ্যাকাডেমি’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর নাম হতে পারে ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং অ্যাকাডেমি’।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জুন মাসের সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৫ জুন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।

সভায় সচিব বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিবর্তিত নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির নাম নির্ধারণ করা যেতে পারে।

সভায় অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার)–এর সভাপতিত্বে তথ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বেতার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, বিসিটিআই, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) দপ্তরপ্রধান বা মনোনীত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব প্রস্তুতের জন্য এ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি অ্যাকাডেমির নাম নির্ধারণের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

১৪৫টি ক্রয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে, সচিবের প্রশ্ন

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার ক্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে মোট ৩৮৯টি ক্রয়ের পরিকল্পনা করা হয়। এসব ক্রয়ের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৫২ কোটি ২৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। মে ২০২৬ পর্যন্ত ১৬৮টি ই-জিপি ও ১৪৫টি ম্যানুয়াল ক্রয়সহ মোট ৩১৩টি ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৫৭ কোটি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ক্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ।

সভায় দপ্তর ও সংস্থাভিত্তিক ক্রয় পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় তথ্যসচিব বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫-এ শতভাগ ক্রয় ই-জিপিতে সম্পন্ন করার নির্দেশ রয়েছে। এরপরও ১৪৫টি ক্রয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হয়েছে। এসব ক্রয় কোন অনুমোদনবলে করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কাছে তা জানতে চান তিনি।

জবাবে দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পিপিআর, ২০২৫ জারির আগে কিছু ক্রয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হয়েছে। তবে পিপিআর, ২০২৫ জারির পর অনুমোদন ছাড়া কোনো ম্যানুয়াল ক্রয় করা হয়নি। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) অনুমোদন নিয়ে কিছু ক্রয় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হয়েছে।

ফিল্ম আর্কাইভের ক্রয়ে ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়ম’

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের একটি ক্রয়ে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ লঙ্ঘনের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়, মহাপরিচালকের ব্যয়সীমার ঊর্ধ্বে একটি ক্রয় কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের আগেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়ম’।

এ ঘটনায় সচিব উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালককে মন্ত্রণালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সভায় অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে অনিবার্য দু-একটি ক্ষেত্র ছাড়া বিপিপিএ ম্যানুয়াল ক্রয়ের অনুমোদন দেবে না বলে জানা গেছে। তাই সব ক্রয় ই-জিপিতে করার লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কারিগরি ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

ই-জিপিতে ক্রয় সম্পাদনের দক্ষতা বাড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণে পিপিআর, ২০২৫ বিষয়ক প্রশিক্ষণ আবশ্যিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তথ্যসচিব।

বিচারাধীন মামলা ৭৩৮টি

সভায় জানানো হয়, গত মে মাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৭৩৮। ওই মাসে কোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন কোনো মামলাও দায়ের করা হয়নি। 

চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের আইন, বিধিমালা ও নীতিমালার সংকলন বই আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

পুরোনো নথি বিনষ্টের উদ্যোগ

মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থায় স্তূপ হয়ে থাকা পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ নথি যাচাই করে বিনষ্টের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের কোনো শাখা থেকে বিনষ্ট যোগ্য নথির তালিকা প্রশাসন-১ শাখায় পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে যুগ্মসচিব (প্রশাসন) বলেন, নথি বিনষ্টকরণের সঙ্গে অফিসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কর্মপরিবেশ সরাসরি সম্পর্কিত। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় অনেক পুরোনো নথি রয়েছে। এগুলো পরীক্ষা করে বিনষ্ট যোগ্য নথির তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রত্যেক শাখার নথি শ্রেণিবিন্যাস করে বিনষ্টযোগ্য নথির তালিকা আবশ্যিকভাবে প্রশাসন-১ শাখায় জমা দিতে হবে। প্রশাসন-১ শাখা কমিটি গঠন করে নথি বিনষ্টের কার্যক্রম গ্রহণ করবে। আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকেও মেয়াদোত্তীর্ণ নথি বিনষ্টের উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

হচ্ছে নতুন ‘নিউ মিডিয়া উইং’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অর্গানোগ্রামে নতুন ‘নিউমিডিয়া উইং’ যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সভায় সচিব জানান, মন্ত্রণালয়ের অর্গানোগ্রামে নতুন নিউমিডিয়া উইংসহ নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়ে মন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। অর্গানোগ্রাম হালনাগাদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দ্রুত পর্যালোচনা করে নিউমিডিয়া উইং সৃষ্টির প্রস্তাব প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রণালয়, তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি), বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার, ডিএফপি, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) নিয়োগবিধি এবং সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদের অগ্রগতি প্রতি মাসের সমন্বয় সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এসএইচআর/এমএন