বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

পাহাড়ের পাদদেশে আর কোনো বসতি নয়, সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে

পাহাড়ের পাদদেশে আর কোনো বসতি নয়, সবাইকে পুনর্বাসন করা হবে

পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে পাহাড়ের পাদদেশে আর কোনো বসতি থাকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত সব পরিবারকে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা হবে। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি ও আবাসনের ব্যবস্থা করবে।

শনিবার (১১ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ এলাকার ১ নম্বর ঝিলের ওপর বায়তুন নুর জামে মসজিদ-সংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে দুর্যোগ মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। তবে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রধান তারেক রহমান তাকে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছেন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে। আশ্রয়কেন্দ্রে যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন খাদ্য, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর পাহাড়ধসে প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি রোধে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর ও স্থায়ী পুনর্বাসন করা হবে। তিনি এ কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আকবরশাহ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার পাশাপাশি পাহাড় কাটা কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ এলাকায় নতুন কোনো আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না।

মেয়র বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই সিটি কর্পোরেশন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত রান্না করা খাবার, শুকনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। গর্ভবতী নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত নারী, শিশু ও প্রবীণদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

এমআর/জেডএস