ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক বঞ্চিতদের অনুপাতে শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গণবিজ্ঞপ্তিসহ তিন দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, রিটেন ও ভাইভায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ কিন্তু ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীরা।
রোববার (১২ জুলাই) ডিআরইউতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে খোরশেদ আলম নামে এক প্রার্থী বলেন, আমরা ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, রিটেন ও ভাইভায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ। কিন্তু ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থী। এনটিআরসিএ ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী শূন্যপদের বিপরীতেই আমাদের ৬০ হাজার ৬৩৪ জনকে উত্তীর্ণ করিয়েছিল। পাসের হার ছিল ৩.২৪ শতাংশ। এই কঠিন প্রতিযোগিতায় ৩ ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়ভিত্তিক শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত না করা এবং আগে সুপারিশপ্রাপ্তদের বারবার আবেদনের সুযোগ দেওয়ার কারণে আমরা এরইমধ্যে দুইবার সুপারিশবঞ্চিত হয়েছি। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ও সুপারিশ না পাওয়ায় আমরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্নসহ ব্যক্তিগত জীবনে দূর্বিসহ ও মানবেতর জীবনযাপন করছি।
তিনি বলেন, আপনারা আরো অবগত আছেন যে, এই ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা এনটিআরসিএ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর অগনিত স্মারকলিপি দেই এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন আন্দোলন করি। সর্বশেষ গত ১৯-২১ এপ্রিল শাহবাগ, জাতীয় জাদুঘরের সামনে রাত্রীযাপনসহ অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এনসিটিবি ভবনে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাদের কথা মনযোগ সহকারে শোনেন এবং যৌক্তিক বলে স্বীকার করেন এবং তৎক্ষণাৎ তিনি আমাদের দাবির ব্যাপারে মোবাইল ফোনে এনটিআরসিএ-এর তৎকালীন চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং আমাদের আশ্বস্ত করেন। পরে ৮ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের নিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী এনটিআরসিএ-এর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ১৮তম সুপারিশবঞ্চিতদের পদ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমরা সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানতে পেরেছি যে, আমাদের জন্য কলেজ পর্যায়ে মাত্র ৭৫ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের জন্য চরম হতাশাজনক।
তাদের দাবিগুলো হলো :
১. ই-রিকুইজিশনের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক বঞ্চিতদের অনুপাতে শতভাগ শূন্যপদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। আর যেন কেউ বঞ্চিত না রয়।
২. যেসব বিষয়ে শূন্যপদের তুলনায় সুপারিশবঞ্চিতদের সংখ্যা বেশি, সেসব বিষয়ে এই বঞ্চিত প্রার্থীদের সম্পূর্ণ নিয়োগ নিশ্চিত করার আগে নতুন কোনো নিবন্ধন সার্কুলার প্রকাশ করা যাবে না।
৩. সনদের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশ বঞ্চিত সবাইকে নিয়োগের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, সহকারী শিক্ষক, স্কুল পর্যায়-২ এবং প্রভাষক পদে শতভাগ নিয়োগ-এর জোর দাবি জানানো হয়।
এমএম/জেডএস
