সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘকে দিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাতিসংঘের নিরপেক্ষ তদন্তের কারণে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জুলাই রেভুলেশন অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি, জাস্টিস অ্যান্ড হিলিং ইন পোস্ট জুলাই বাংলাদেশ’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও তার মন্ত্রিসভা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের মাধ্যমে করা হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ১২৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতটাই শক্তিশালী এই প্রতিবেদন যে বিশ্বের কোনো শক্তিই এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না।
তিনি দাবি করেন, যদি এই তদন্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার পরিবর্তে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে করানো হতো, তাহলে প্রতিবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হতো এবং বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করে তা বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হতো। কিন্তু জাতিসংঘের তদন্তের কারণে সেই সুযোগ তৈরি হয়নি।
জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তারা পৃথিবীর যেখানেই অবস্থান করুক, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার জন্য একটি শক্তিশালী ও নিবেদিতপ্রাণ সংস্থা গঠন করা প্রয়োজন। ওই সংস্থায় গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রসিকিউটরদের সমন্বয়ে কাজ করারও প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতি তিন মাস পরপর অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে জনসাধারণকে হালনাগাদ তথ্য জানানো উচিত এবং তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছে কি না, সেটিও নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে অতীতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের অনেক ক্ষেত্রেই শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পোস্ট-জুলাই বাংলাদেশে ট্রমা সাপোর্ট, পুনর্মিলন (রিকনসিলিয়েশন) ও রূপান্তরমূলক ন্যায়বিচারের (ট্রানজিশনাল জাস্টিস) প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের দায়মুক্তির বার্তা না দেয়। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের আগে দায় স্বীকার ও ক্ষমা চাইতে হবে। যারা এখনো তাদের অপরাধ স্বীকার করেনি বা ক্ষমা চায়নি, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস হতে পারে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাস ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে নিহত ও আহতদের শনাক্ত করা এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোনো ক্ষতিপূরণই স্বজন হারানোর বেদনার সমান হতে পারে না।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের চেতনা ধরে রেখে শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাইকে নিয়ে একটি বৃহত্তর ‘জুলাই পরিবার’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এমএল/বিআরইউ
