বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, মাদক ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৭

রাজধানীতে ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, মাদক ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ৭

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক তিনটি অভিযানে গুলিসহ তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ৭৫০ বোতল অবৈধ ইস্ক্যাপ সিরাপ এবং ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো : মো. জয়নাল (৪২), মো. সামিউল হক (৪৩), নুর ইসলাম সুরুজ (৪৪), মো. হাফিজুর রহমান ওরফে লালমিয়া (৪৫), সোহান চৌধুরী (৩০), মো. রবিউল ইসলাম মুন্না (২৪) ও মো. কাশেম (৩৫)।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

dhakapost

তিনি জানান, রাজধানীর দারুস সালাম থানার গাবতলী ব্রিজ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায় মিরপুর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় একটি প্রাইভেটকার ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে জয়নাল আবেদিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ি থেকে বেলজিয়ামের তৈরি তিনটি বিদেশি বন্দুক, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ১০০ বোতল ইস্ক্যাপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

একই অভিযানে ওই গাড়িকে এসকর্ট করা আরেকটি প্রাইভেটকারের যাত্রীরা পালিয়ে গেলেও, গাড়ি থেকে ৪৫০ বোতল ইস্ক্যাপ সিরাপ জব্দ করা হয়। 

তদন্তে জানা গেছে, দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে একাধিক গাড়িতে করে মাদকের চালান ঢাকায় আনা হয়। আর এই মাদকের চালানের সঙ্গে অস্ত্রধারীরা মাদকবাহী গাড়িকে নিরাপত্তা দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করাতো।

dhakapost

এদিকে ডিবির ওয়ারী বিভাগ রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পৃথক অভিযানে একটি গাড়ি থেকে ৩০০ বোতল স্ক্যাপ সিরাপ উদ্ধার করে। পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে একটি পিকআপ আটক করে আরও ৯০০ বোতল স্ক্যাপ সিরাপ জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, উত্তরা বিভাগের আরেকটি অভিযানে একটি গাড়ি ধাওয়া করে ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশের ঘোষিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে মাদক, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া বিদেশি অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স আছে কি না এবং কীভাবে দেশে এসেছে, তা সিরিয়াল নম্বর যাচাই করে তদন্ত করা হবে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত থেকে মাদক এনে রাজধানীতে সরবরাহ এবং মাদকবাহী গাড়িকে অস্ত্রের পাহারায় নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। অতীতেও তারা একাধিক চালান পৌঁছে দিয়েছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একই স্টাইলে মাদক পরিবহন করা হলেও চক্র ও রুট সবই পৃথক। আলাদাভাবে সক্রিয় তিনটি মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে চক্রগুলোর অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ সময় ডিবির মিরপুরের (ভারপ্রাপ্ত) ডিসি রাকিব খান, ওয়ারি বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহীনসহ তিন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএএ/জেআই