চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন ২১টি স্লুইস গেট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাছে হস্তান্তর করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও টেকসই করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার বিষয়ে অবগত আছেন। এই প্রকল্প যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং চট্টগ্রামের মানুষ যেন ভবিষ্যতে আর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে না পড়ে, সে জন্য দ্রুততম সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
প্রকল্প হস্তান্তরের আগে চসিকের জনবলকে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ফরহাদ হোসেন আরও জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চসিকের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চকবাজারসহ বিভিন্ন খালের কিছু অংশের কাজ বাকি থাকায় ওই এলাকাগুলোতে এখনো জলাবদ্ধতা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিদিন উৎপন্ন ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১ হাজার টন বর্জ্য ড্রেন ও খালে পড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে চসিকের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ‘ওয়াটার লগিং ডিপার্টমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
সভায় প্রকল্পের নকশা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া এই প্রকল্পের নকশা ত্রুটিপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্লুইস গেটের পানি অপসারণ সক্ষমতা যাচাই না করলে জনগণ এর সুফল পাবে না।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান অভিযোগ করেন, অনেকগুলো স্লুইস গেট অকেজো ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সাগরের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় অনেক গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন জানান, প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী জুনের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পেতে একটি কার্যকর এক্সিট প্ল্যান বা উত্তরণ পরিকল্পনা জরুরি বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চসিকের প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আলাদা রক্ষণাবেক্ষণ দল গঠনের পরামর্শ দেন।
সভায় সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরীসহ চট্টগ্রাম বন্দর ও সিডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেআই
