মাদক মামলায় শুধু বহনকারীরাই বারবার গ্রেপ্তার হচ্ছে, অথচ মূল মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তারা অথবা তাদের পরিবারের সদস্যরা উল্টো সংসদে যাচ্ছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল ২০২৬’ পাসের জন্য উত্থাপনের পর বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কড়া সমালোচনা করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারি সমস্ত দপ্তরের রিপোর্টে মাদক ব্যবসার মূল হোতা হিসেবে যাদের নাম উঠে আসে, তারাই আইনপ্রণেতা হয়ে সংসদে বসেন। টেকনাফ দিয়ে যাদের হাত ধরে মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, সেই মূল হোতাদের যতদিন পর্যন্ত ধরা না যাবে, ততদিন শুধু শক্ত আইন দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ২৫ গ্রামের বেশি মাদক পেলেই যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর বিধান থাকা সত্ত্বেও লাখ লাখ পিস ইয়াবা কিংবা কেজি কেজি হেরোইন ধরা পড়ছে, অথচ মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ২৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে মাদক চোরাচালান ও তা দমনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আগে মাদকের প্রসঙ্গে একজনের নামই বারবার আসত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, আগে শুনতাম বদি, এখন তো বদি নাই, বদি তো বধ হয়ে গেছে; কিন্তু এখন ওইখানকার দায়িত্বটা কে নিয়েছে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেনার কথা।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জোর দিয়ে বলেন, আইন দিয়ে কোনো অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়, যদি না সেটি কার্যকরী করার জন্য সৎ সাহস এবং রাজনৈতিক ইচ্ছা থাকে। বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এতদিনেও সীমান্ত দিয়ে মাদক আসা বন্ধ না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এসআর/এসএএস
